শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৮ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ মে, ২০২১ ২৩:৪৯

হালদায় মা মাছ ডিম ছেড়েছে

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

হালদায় মা মাছ ডিম ছেড়েছে
Google News

হালদায় ডিম ছেড়েছে মা মাছ। বুধবার রাত ১২টার  দিকে পূর্ণাঙ্গ মাত্রায় ডিম ছাড়তে শুরু করে। ওই রাতে হালদা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায় ৪০০ নৌকা ও ১ হাজারের বেশি ডিম আহরণকারী অবস্থান করেছেন। সবার হাতে থালা-বাসন, বালতি ও জাল। নদী থেকে তুলছেন মুক্তাদানা সদৃশ ডিম। মুঠোয় মুঠোয় বালতিতে ভরছেন ‘সাদা সোনা’ খ্যাত ডিমগুলো। জাল থেকে মুঠভর্তি ডিম আহরণ করেন জেলেরা। উপমহাদেশের অন্যতম প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র ও বঙ্গবন্ধু হেরিটেজ হালদা নদীতে মাঝরাতে নৌকায় নৌকায় নিভু নিভু আলোতে তৈরি হয় অন্যরকম দৃশ্য। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হালদা রিভার রিচার্স ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের কারণে নদীতে জোয়ারের মাধ্যমে লবণাক্ত পানি হালদায় প্রবেশ করেছে। লবণাক্ত পানি সহ্য করতে না পেরে মা মাছ ডিম ছেড়ে দিয়েছে। তবে যথেষ্ট পরিমাণ বৃষ্টি না হওয়ায় উজানে পাহাড়ি ঢল ছিল না। ফলে মা মাছ তার প্রজননের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ পায়নি। আশা করছি, আবারও বজ্রসহ বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল নামলে মা মাছ ডিম দেবে। তিনি বলেন, এবার কী পরিমাণ ডিম আহরণ করা হয়েছে তা এখনো নির্ণয় করা হয়নি। চবি হালদা রিচার্স ল্যাবে তা নির্ণয় করা হবে। তাছাড়া সরকারিভাবেও ডিমের পরিমাণ জানানো হবে। হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, বুধবার রাত থেকেই হালদা নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ডিম সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিজন ৩-৪ কেজি করে ডিম সংগ্রহ করেছেন। আমরা আশা করছি গতবারের চেয়ে বেশি পরিমাণ ডিম পাওয়া যাবে। ডিম সংগ্রহকারী কামাল উদ্দিন সওদাগর বলেন, আমরা গত তিনদিন ধরেই হালদা নদীতে অবস্থান করছি। গত মঙ্গলবার রাতে নমুনা ডিম দেয় এবং বুধবার রাতে মা মাছ পূর্ণাঙ্গ মাত্রায় ডিম ছাড়তে শুরু করে।

 আমি এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ কেজি ডিম আহরণ করেছি। ২৮ মে পর্যন্ত জো’র প্রভাব থাকবে। আশা করছি আবারও ডিম ছাড়বে মা মাছ। জানা যায়, চট্টগ্রামের হাটহাজারী, রাউজান ও ফটিকছড়ি উপজেলার প্রায় ৯৮ কিলোমিটার ?দীর্ঘ এলাকাজুড়ে হালদা নদীর অবস্থান। প্রতি বছর এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে পূর্ণিমা-অমাবস্যার তিথিতে বজ্রসহ বৃষ্টি হলে পাহাড়ি ঢল নামে হালদা নদীতে। তখনই তাপমাত্রা অনুকূলে থাকলে ডিম ছাড়ে কার্প জাতীয় মাছ। এবার পূর্ণিমা তিথি থাকলেও বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢল ছাড়াই মা মাছ ডিম ছেড়ে দিয়েছে। বুধবার রাত ১টার দিকে হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলার নোয়া হাট, আজিমের ঘাট, অঙ্কুরিঘোনা, আমতুয়া, সত্তার ঘাট, রামদাশ মুন্সীর হাট, মদুনাঘাট, গড়দুয়ারা, কান্তার আলী চৌধুরী ঘাট, নাপিতের ঘোনা, মার্দাশা এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টসহ আশাপাশের এলাকা থেকে স্থানীয় সংগ্রহকারীরা ডিম আহরণ করেন। তারা গতকাল সকাল পর্যন্ত ডিম সংগ্রহ করেন। সংগ্রহ করা ডিম থেকে রেণু ফোটাতে   হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলার সরকারি চারটি হ্যাচারি, আইডিএফের একটি হ্যাচারি ও ১৪৫টি মাটির খোয়া প্রস্তুত রাখা হয়েছে। 

জেলা মৎস্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, গত বছর হালদা নদীতে রেকর্ড পরিমাণ ডিম সংগ্রহ করা হয়েছিল- ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি। ২০১৯ সালে সংগ্রহ করা হয় প্রায় ৭ হাজার কেজি, ২০১৮ সালে সংগ্রহ করা হয় ২২ হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৭ সালে মাত্র ১ হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৬ সালে ৭৩৫ (নমুনা ডিম) কেজি, ২০১৫ সালে ২ হাজার ৮০০ কেজি এবং ২০১৪ সালে ১৬ হাজার ৫০০ কেজি।