শনিবার, ২৬ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা

কষ্টের দিনে বসুন্ধরার ত্রাণ খুব উপকার করিল বাহে

রেজাউল করিম মানিক, লালমনিরহাট

কষ্টের দিনে বসুন্ধরার ত্রাণ খুব উপকার করিল বাহে

খুব কষ্টে দিন কাটছিল মানুষগুলোর। কোনো কর্ম নেই। ঘরে খাবার নেই। অগ্নিমূল্যের বাজার থেকে কিছু কিনে পরিবারের জন্য খাবার জোটাবার পয়সাও হাতে নেই। এমন কঠিন অবস্থায় খাবার সামগ্রী তুলে দেওয়ায় আনন্দে অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠেছিলেন লালমনিরহাটের কালিগঞ্জ উপজেলার অসহায় দরিদ্র মানুষগুলো। অনেকেই বলছিলেন, কষ্টের দিনে এমন উপকারের কথা কোনোদিন ভুলবার নয়।

করোনার এই মহাসংকটকালে বসুন্ধরার খাদ্যসহায়তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে কালের কণ্ঠ শুভসংঘের আয়োজনে ত্রাণ বিতরণের তৃতীয় দিনে গত শুক্রবার লালমনিরহাটে ৬ শতাধিক অসহায় মানুষের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। খাদ্যসামগ্রী পেয়ে অশ্রুসিক্ত শিয়াল খোওয়া গ্রামের ফজর আলী, শাহ আলী, চন্দ্রপুরের জেল হোসেন, ওজেতন বানুসহ অনেকেই বলছিলেন, এখন কোনো কাজকর্ম নেই, বাজারে সব জিনিসের দাম বেশি। তারা বলেন, ‘পরিবার নিয়ে হামারগর দিন কাটে অভাবে, এই কষ্টের দিনে বসুন্ধরার ত্রাণ খুব উপকার করিল বাহে।’ অনেকে বলেন, ‘ক্যাও হামাকের রিলিপ দেয় না। খালি কয় দিমু, কিন্তু দ্যায় না। হামাকের মতো গরিবরের সাথে সগায় মস্করা করে। কিন্তু বসুন্ধরা হামাকের বাঁচায়ে দিলো। হামাকের দিন অ্যাকোন ভালোই যাবেন।’

জেলা প্রশাসক আবু জাফরের হাত থেকে খাদ্য নিয়ে এ সময় অনেক দরিদ্রই হাত তুলে প্রার্থনা করেন। তারা বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের জন্য দোয়া করেন। বলেন, ‘আল্লাহ যেন এই দানকারীদের হেফাজত করেন।’ খাদ্য সহায়তা পেয়ে এসব দরিদ্র অসহায় মানুষদের চোখ মুখে বইছিল আনন্দের ধারা। অশ্রু-আনন্দে এক অন্য রকম পরিবেশ তৈরি হয়েছিল ত্রাণ বিতরণের স্থান কালিগঞ্জ চাপারহাট ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে। এই প্রতিনিধিকে ত্রাণ পাওয়া অনেকেই জানান, হাতে কাজকর্ম না থাকায় বসুন্ধরার খাদ্যসহায়তা তাদের কল্পনাতীত রকম উপকারে আসবে।

এদিন ৬০০ দরিদ্র নারী-পুরুষের মাঝে তুলে দেওয়া খাদ্য-সামগ্রীর মধ্যে ছিল ১০ কেজি চাল, দুই কেজি আটা, দুই কেজি ডাল, এক লিটার সয়াবিন তেল। ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচির সূচনা করেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক আবু জাফর। এ সময় বিশিষ্টজনদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল মান্নান, উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান আহমেদ, চাপারহাট ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আবু বক্কর সিদ্দিক, কালের কণ্ঠের রংপুর ব্যুরো প্রধান স্বপন চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক এ কে এম মইনুল হক, সিনিয়র সাংবাদিক আবদুুল আলিম, বাংলাদেশ প্রতিদিনের জেলা প্রতিনিধি রেজাউল করিম মানিক, কালের কণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি হায়দার আলী বাবু, যুবলীগ সভাপতি রেফাজ রাঙ্গা, শিক্ষক সমিতির উপজেলা সম্পাদক আবু সাঈদ প্রমুখ। এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, ভয়াবহ এই করোনার দুঃসময়ে মানুষ যেখানে কর্মহীন, অভাব অনটনে যেখানে দিন কাটছে- সেখানে বসুন্ধরা গ্রুপের এই মানবিক উদ্যোগ প্রশংসনীয়। বসুন্ধরা গ্রুপ তাদের এই খাদ্যসহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে এমনটাই প্রত্যাশা করেন তিনি।