বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

টেকনাফে পাহাড়ধসে পাঁচ ভাইবোনের মর্মান্তিক মৃত্যু

মহেশখালীতে আরও দুজন নিহত

কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড়ধসের ঘটনায় মাটিচাপা পড়ে একই পরিবারের পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তারা হলো- হ্নীলা ইউনিয়নের পশ্চিম পানখালী ভিলেজারপাড়ার সৈয়দ আলমের ছেলে আবদুস শুক্কুর (১৬), মু. জুবাইর (১২) , আবদুর রহিম (৫) এবং দুই মেয়ে কহিনুর (৯) ও জয়নব আক্তার (৭)। এ ছাড়া মহেশখালীতে পৃথক পাহাড়ধসে আরও দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তারা হলো উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের রাজুয়ার ঘোনা এলাকার শতায়ু আলী মিয়া ও ছোট মহেশখালী সিপাহীপাড়ার নুরুচ্ছফা বেগম (১৭)। টেকনাফ প্রতিনিধি জানান, মঙ্গলবার দিবাগত ভোররাতে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ভিলেজারপাড়া এলাকায় স্থানীয়রা মাটির নিচে চাপা পড়া পাঁচটি মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন। টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান জানান, মধ্যরাতে টেকনাফের হ্নীলার ভিলেজারপাড়ায় পাহাড়ধসে নিহত সৈয়দ আলমের তিন ছেলে ও দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে ভারী বৃষ্টির কারণে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলো সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে, মঙ্গলবার ভারী বর্ষণে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে ও পানিতে ভেসে ৭ জন মারা গেছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও দুই জন। দুপুরে উখিয়ার বালুখালী ১০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এদিকে, সরেজমিন টেকনাফ পাহাড়ধসের ঘটনাস্থল গিয়ে দেখা যায়, হ্নীলা ইউনিয়নের পানখালী ভিলেজার জমিতে পাহাড়ের কাছে সৈয়দ আলমের পরিবারসহ বেশ কয়েকটি পরিবার ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে আসছিল। গত ছয়দিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাত সত্ত্বেও তারা ঝুঁকি জেনেও ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাননি। ফলে এমন  মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয় সৈয়দ আলমের পরিবার। সৈয়দ আলম, স্ত্রী ও এক সন্তান প্রাণে বেঁচে গেলেও চোখের সামনে পাঁচ সন্তানের মৃত্যুতে পরিবারে শোকের মাতম চলছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আল আমিন পারভেজ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  মো. পারভেজ চৌধুরী ও হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী। এ সময় জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে দাফনের জন্য ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে আরও সহায়তা দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ওই এলাকায় বসবাসকারী অন্য পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়।

কক্সবাজার দক্ষিণ বিভাগের টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা সৈয়দ আশিক আহমেদ বলেন, পাহাড়ধসের ঘটনায় মাটিচাপা পড়ে নিহতের পরিবারটি বংশানুক্রমিকভাবে বনবিভাগের ভিলেজার জমিতে বসবাস করে আসছিল। তবে তারা উঁচু পাহাড়ের নিচের ভূমিতে বসবাস করায় অনেক বেশি ঝুঁকিতে ছিল। গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে তাদের একাধিকবার সতর্ক করে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা সেটি করেননি। তাদের মতো এখনো পাহাড়ে ঝুঁকি নিয়ে অবৈধভাবে ঘর করে কয়েক শ পরিবার বসবাস করছে। তাদের স্থায়ীভাবে পাহাড় থেকে সরিয়ে না নিলে প্রতি বছর এ ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে।

আবহাওয়া অধিদফতর কক্সবাজার সূত্র জানায়, গত ছয়দিন ধরে জেলায় ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে জেলা সদর, টেকনাফ ও কুতুবদিয়া উপজেলায় গত কয়েক দিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যমতে, গত মঙ্গলবার থেকে বুধবার ভোর ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ৩২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে টেকনাফে। এ সময় কক্সবাজারে বৃষ্টিপাত ছিল ১১৫ ও কুতুবদিয়ায় ১২৫ মিলিমিটার।

ঈদগাঁওতে নিখোঁজ তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার : ঢলের পানিতে মাছ ধরতে গিয়ে কক্সবাজারের ঈদগাঁওতে নিখোঁজ তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

রামু ফায়ার সার্ভিস ও চট্টগ্রাম থেকে আসা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দীর্ঘ প্রচেষ্টা চালিয়ে গতকাল বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে মৃতদেহগুলো উদ্ধার করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঈদগাঁও সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ আলম।

তিনি জানান, গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় বাসস্টেশনের পূর্ব পাশে দরগাহপাড়া এলাকায় ঢলের পানিতে মাছ ধরতে যান একই গ্রামের মোহাম্মদ শাহাজাহানের দুই ছেলে মোহাম্মদ ফারুক (২৬) ও দেলোয়ার হোসেন (১৫) এবং আবছার কামালের ছেলে মোহাম্মদ মোরশেদ (১৪)।

টানা বর্ষণে ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে স্রোতের টানে তারা তলিয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।