রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা
কৃষি

অল্প খরচে মাল্টা চাষ

রিয়াজুল ইসলাম, দিনাজপুর

অল্প খরচে মাল্টা চাষ

পাহাড়ি অঞ্চলের মাল্টা এখন চাষ হচ্ছে দিনাজপুরের সমতল ভূমিতে। লিচু, আম, কমলা বাণিজ্যিকভাবে চাষ হলেও এবারে মাল্টা চাষে ঝুঁকেছেন কৃষকরা। অল্প খরচে বেশি উপার্জন এবং এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া উপযুক্ত হওয়ায় ইতিমধ্যে বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষ শুরু হয়েছে। মাল্টা এখন দিনাজপুরের চিরিরবন্দর, বীরগঞ্জ, বিরলসহ বিভিন্ন উপজেলার সমতল ভূমিতে চাষ হচ্ছে। এ অঞ্চলে মাল্টা আরও ব্যাপকহারে চাষ হলে দিনাজপুরে অর্থনৈতিকভাবে বিপ্লব হবে বলে উদ্যোক্তারা আশা করছেন। কৃষক প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে এ অঞ্চলে মাল্টা চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, মাল্টা বারি-১ একটি উচ্চ ফলনশীল সুস্বাদু ফল। সাধারণত জুন-জুলাই মাসে চারা রোপণ করতে হয়। গাছ রোপণের দুই বছরের মধ্যে ফল পাওয়া যায়। সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাসে ফল ধরে এবং এটি পরিপক্ব হয়ে কমলা রং ধারণ করে সেপ্টেম্ব^র মাসের দিকে। ফুল আসা থেকে শুরু করে ফল পাকতে সময় লাগে ৬ মাস। প্রথম মৌসুমে ফলন একটু কম হয়। প্রতিটি গাছে বছরে ৩০০-৪০০ মাল্টা পাওয়া যায়। সরেজমিনে দেখা যায়, চিরিরবন্দরের নশরতপুর ইউপির দক্ষিণ নশরতপুর গ্রামের রাসেলের বাগানের গাছে গাছে সবুজ পাতার ফাঁকে, ডালে ঝুলছে থোকায় থোকায় মাল্টা। বাতাসে মাল্টার টক-মিষ্টির গন্ধ। ২০১৭ সালে চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা মাল্টা চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম শুরু করে। কৃষি অফিস  থেকে বিনামূল্যে বারি-১ জাতের মাল্টা গাছ সরবরাহ করা হয়। উত্তর নশরতপুর গ্রামের কৃষক আহসান হাবিব ওরফে রাসেল মাল্টার বাগান করে সফলতাও পেয়েছেন। তিনি ৩৩ শতক জমিতে মাল্টা চাষ করেন। এতে ৭২টি গাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছে এখন ঝুলছে মাল্টা। গাঢ় সবুজ রঙের মাল্টাগুলোর কোনটিতে হলুদ রং এসেছে। বাগানের প্রতিটি গাছ থেকে ১৫-২০ কেজি মাল্টা পাওয়া যায়। গত বছর তিনি তার বাগান থেকে অন্তত ৫০-৬০ হাজার টাকার মাল্টা বিক্রি করেছেন। এ বছর তিনি অন্তত এক লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করবেন বলে আশা করছেন। বর্তমানে তার প্রতিটি গাছেই ফল ধরেছে। তার সাফল্য দেখে অনেকেই মাল্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। তার পথ ধরে মাল্টা চাষ করেছেন একই গ্রামের ফিরোজ আহম্মেদ। তিনি ২৫ শতক জমিতে মাল্টা চাষ করেছেন। তার গাছেও ফল ধরেছে। উপজেলার ঈসবপুর ইউনিয়নের ব্যাঙ্গের কাদো গ্রামের মো. মাজেদুল ইসলাম এবং ফতেজংপুর ইউনিয়নে মো. আবদুল জলিল মাল্টা চাষ করছেন।

চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি অফিসার জোহরা সুলতানা বলেন, বারি মাল্টা দেশে উদ্ভাবিত একপ্রকার সাইট্রাস জাতীয় ফল। মাল্টা একটি অর্থকরী ফসল। এটি ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ সুস্বাদু ফল। ভৌগোলিক কারণে দিনাজপুর অঞ্চলের মাটি কমলা এবং মাল্টা চাষের জন্য উপযুক্ত এবং উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর