সমাজে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় ১১ জন সুপ্রতিষ্ঠিত নাগরিকের মা পেলেন ‘গরবিনী মা’ ২০২৬ সম্মাননা। প্রশাসন, আইন ও বিচার, আইনশৃঙ্খলা, শিক্ষা, সাংবাদিকতা, চিকিৎসা, প্রকৌশল, সংগীত, অভিনয় (নারী ও পুরুষ) এবং অদম্যমেধাবী ক্যাটাগরিতে অবদান রাখায় এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। গতকাল রাজধানীর মহাখালীর রাওয়া কনভেনশন সেন্টারে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও বিসিআই-এর সিনিয়র সহসভাপতি প্রীতি চক্রবর্ত্তী। প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়কমন্ত্রী ড. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও গরবিনী-মা সম্মাননা-এর প্রধান উদ্যোক্তা ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্ত্তী। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় সমাজের ১১ জন সুপ্রতিষ্ঠিত নাগরিকের মা-কে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাঁরা হলেন প্রশাসনে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলামের মা বেগম ফহোত ইসলাম, আইন ও বিচার ক্যাটাগরিতে বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহা. রকিবুল ইসলামের মা বেগম রোকেয়া রশিদ। আইনশৃঙ্খলায় ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার প্রধান মো. শফিকুল ইসলামের মা মোসা. রাজিফা আজাদ, শিক্ষায় ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের উইম্যান অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজের অধ্যাপক ড. তানিয়া হকের মা সেলিমা হক, সাংবাদিকতায় বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক এ. কে. এম. মন্্জুরুল ইসলামের মা রাজিয়া আহমেদ। চিকিৎসা ক্ষেত্রে ঢাকা মেডিকেল কলেজের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদের মা সরস্বতী প্রসাদ, প্রকৌশল ক্ষেত্রে নর্থ সাউথ বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ডিজাইন পেশাজীবী অমিতি কুন্ডুর মা ফাল্গুনী কুন্ডু, সংগীতে সংগীতশিল্পী সোমনূর মনির কোনালের মা সায়মা মনির মিনু। অভিনয়ে অভিনেতা জিয়াউল হক পলাশের মা ফাতেমা আক্তার কাজল ও অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণের মা সৈয়দা শারমিন। এ ছাড়া প্রথম আলো ট্রাস্ট অদম্যমেধাবী খাইরুম ইসলামের মা শিরিন আক্তার (পিয়া) গরবিনী মা ২০২৬ সম্মাননা পান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, একটি শিশুর প্রথম পাঠশালা তার মা। জীবনের কঠিনতম সময়ে শেষ ভরসাস্থলও তার মা। মায়েদের নিরন্তর ত্যাগ কোনো প্রতিদানের আশা রাখে না। প্রত্যেকের কর্তব্য মায়েদের শ্রদ্ধা আর মমতায় আগলে রাখা। এ ছাড়া উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রদানের পাশাপাশি এমন সামাজিক আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে গরবিনি মায়েদের প্রত্যেক সন্তান তাঁদের অনুভূতি তুলে ধরেন। এ সময় বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক এ. কে. এম. মন্্জুরুল ইসলাম তাঁর মা রাজিয়া আহমেদ সম্মাননা পাওয়ায় আবেগঘন হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, মা শব্দে যে ভালোবাসা, তা আর অন্য কোনো শব্দে নেই। মা না থাকার বেদনার কথা বলতে গিয়ে তিনি সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনকে সমবেদনা জানান। এ সময় পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সালাম জানান তিনি। তিনি বলেন, ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সব রোগীকে যেন সন্তানের মতোই আগলে রাখা হয়। এ ছাড়া এমন একটি পবিত্র উদ্যোগের জন্য ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্ত্তী ও প্রীতি চক্রবর্ত্তীকে ধন্যবাদ জানান তিনি। সেই সঙ্গে তাঁদের গরবিনি মায়ের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।