সামিদা চৌধুরী পপি জন্ম ঢাকার বিক্রমপুরে। সংস্কৃতি মনা পরিবারে বেড়ে ওঠা পপির সংগীত চর্চা শুরু ছোটবেলায়। মায়ের কাছে হাতে খড়ি, মেঝ বোন ডিয়ারলী'র উৎসাহ আর পরিবারের অন্যদের অনুপ্রেরণায় প্রবেশ তার গানের ভুবনে। স্বামীর সংসারে এসেও বেগ পেতে হয়নি তাকে। চলছে তার সমান তালে সংগীত চর্চা। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সংগীত চর্চার শুরু শিশু একাডেমীর মাধ্যমে। এরপর কৌসুমি খেলা ঘরে, সেখান থেকে ১৯৯১ সালে যান প্যারিসে। ১৯৯৮ সালে নজরুল ও ক্লাসিক্যাল গানের উপর বাফার ডিপ্লোমা কোর্স ও ২০০২ তে নজরুল ইনস্টিটিউশন থেকে নজরুল গীতিতে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন পপি।
বাফার কোর্স চলাকালীন সময় থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি বিখ্যাত শিল্পীদের সাথে গান করার সুযোগ হয় তার। স্ট্রেস শো-তে কুমার বিশ্বজিৎ, রিজিয়া পারভিন, তপন চৌধুরীসহ অনেক প্রিয় মুখের সাথে গান করেন পপি। এমনকি ২০০০ সালের নভেম্বরে ইউরোপে এটিএন বাংলার প্রথম সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানে 'রংধনু' নামের সংগীতানুষ্ঠানে গান করারও সুযোগ হয় পপি'র। সেখান থেকে রুনা লায়লা ও সাবিনা ইয়াসমীনের একক সংগীতানুষ্ঠানও প্রচার হয়। শখের বশে তিনি যেমন গান করেন তেমনি গানের জন্য প্যারিস, নেপাল, ভারত, সিংগাপুর, ব্যাংক, মালেশিয়া ও জার্মানসহ ঘুরেছেন দেশে-বিদেশ। এরই ধারাবাহিকতায় সুরেলা কণ্ঠের অধিকারিণী পপি'র ২০০২ সালে বাজারে আসে প্রথম একক এ্যালবাম 'হৃদয়ে হৃদয়ে'।
এরপর বিয়ে, স্বামী-সংসার নিয়ে ব্যস্ত হন তিনি। সময় কাটছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরে। স্বামী মোহাম্মদ মীর হোসেন চাকুরী করেন এমিরেটস এয়ারলাইন্স এ। একমাত্র ছেলে ৬ ছয় বছরের সাদাত মোহাম্মদ মীর অমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে কেজি টুতে পড়ছে। পরিবার-পরিজনের সাথে দুবাই এলেও থেমে থাকেনি তার সংগীত চর্চা। সংগীতে নিরলস শ্রম দিয়ে যাওয়া পপি নিজ বাসায় গড়ে তুলেছেন একটি অস্থায়ী সংগীত স্কুল। এছাড়া ২০০৮ সালে দুবাই বাংলাদেশ কন্স্যুলেটে বিভিন্ন দেশের ২৮ জন ছাত্র নিয়ে একমাসের একটি প্রশিক্ষণ দেন তিনি। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে পপি জানান, 'বিভিন্ন দেশের বাচ্চারা গান শিখতে আসতো তখন। আমার নিয়মানুযায়ী প্রতিটি ছাত্র কে প্রথমে দেশাত্ববোধক গান শিখাই। একদিন পাকিস্তানি এক ছাত্রকে যখন বললাম- সূর্য উঠে পাখির গানে..সাগর শুনায় তান, ও বললো- সূর্য উঠে পাকিস্তানে...। বিষয়টি শুনে বেশ মজা পেয়েছি।'
সংগীত চর্চা ও ভবিষ্যৎ ভাবনা প্রসঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, 'আমার মায়ের মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান, সেদিন থেকে গানই জীবন গানই আমার প্রাণ। ছোটবেলা থেকে যেহেতু গানের ভুবনে মিশে থেকে বড় হয়েছি তাই সংগীতকে আঁকড়ে ধরেই বাঁচতে চাই, গানের মাধ্যমে সবার হৃদয়ে স্থান করে নিতে চাই। গানের শিক্ষক হিসেবে কোনো সংগীত একাডেমীর সাথে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছে আছে। বাংলাদেশ কন্স্যুলেটের সহযোগিতা পেলে খুব শিগগিরই একটি গানের স্কুল করার কথাও ভাবছি।'
নিজের প্রাপ্তিগুলো প্রকাশ করতে গিয়ে পপি বললেন, '২০০২ সালে নজরুল একাডেমীতে নজরুল গীতির উপর দুই বছরের কোর্স শেষ করে দ্বিতীয় স্থান অর্জনই ছিলো আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া। যেখানে সারা দেশের নজরুল শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেছিলেন।' তিনি বলেন, 'তুলনামূলক প্রবাসে সুযোগ কম। আগে এতো প্রোগ্রামও হতো না, ইদানিং কিছু প্রোগ্রাম হচ্ছে কিন্তু সব প্রোগ্রামে যাওয়া হয় না। তবে কিছু কিছু প্রোগ্রামে যাওয়া হচ্ছে, যাচ্ছি।'
উল্লেখ্য, তিনি ঢাকা কলেজ থেকে মাস্টার্স ফার্স্ট পার্ট শেষ করে লন্ডন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন। এছাড়াও ন্যাশনাল ফ্রি ক্যাডেট হাই স্কুলের সংগীত শিক্ষক এবং অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের যৌথ একটি কোম্পানির স্টুডেন্ট কাউন্সেলিং এর দায়িত্ব পালন করেন। পপির বাবা স্বর্ণপদক প্রাপ্ত শিল্পী ওয়াদুদুল হক চৌধুরী ও মা শিরিন চৌধুরী।
বিডি-প্রতিদিন/০৫ মে ২০১৫/ এস আহমেদ