এশিয়ান গেমসের হকিতে বাংলাদেশ যেন এক নিরন্তর অভিযাত্রী। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, ১১ বারের লড়াইয়ে দুবার (১৯৭৮ ও ২০১৮ সালে) ষষ্ঠ হওয়াই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ প্রাপ্তি। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ২৮তম দলটির শোকেসে এশিয়ান হকি ফেডারেশন কাপের টানা চার শিরোপার দীপ্তি থাকলেও এশিয়ান গেমসের মঞ্চে পদক এখনো এক অধরা কাব্য। তবে সেই আক্ষেপ ঘোচানোর সংকল্প নিয়ে থাইল্যান্ডের নীল টার্ফে এবার যাত্রা শুরু করল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ব্যাংককের রয়েল
থাই এয়ারফোর্স হকি মাঠে গতকাল যেন এক স্নায়ুক্ষয়ী নাটকের মঞ্চায়ন হলো। এশিয়ান গেমস হকির বাছাইপর্বের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল চিরচেনা প্রতিপক্ষ চাইনিজ তাইপে। তাদের বিপক্ষে আগের তিন সাক্ষাতে জয় পায় বাংলাদেশ। গত বছর ভারতে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে চায়নিজ তাইপেকে ৮-৩ গোলে হারান আশরাফুল-রাকিবুলরা। আগের দুই ম্যাচের একটিতে বাংলাদেশ জেতে ৪-২ গোলে, আরেক ম্যাচে জয়ের ব্যবধান ছিল ১১-৩। অতীত পরিসংখ্যানে বাংলাদেশ যোজন যোজন এগিয়ে থাকলেও, মাঠের লড়াইয়ে তাইপে শুরুতেই একটা চোরা ধাক্কা দিয়েছিল। ম্যাচের মাত্র চতুর্থ মিনিটে লি চি-শুয়ানের গোলে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। তবে পিছিয়ে পড়লে যে দমে যেতে নেই, সেই মন্ত্র জপেই পাল্টা আক্রমণে ওঠে গোবিনাথন কৃষ্ণমূর্তির শিষ্যরা।
ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে খুব বেশি সময় লাগেনি। প্রথম কোয়ার্টারের শেষ লগ্নে (১৫ মিনিট) পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে সমতা ফেরান পেনাল্টি কর্নার স্পেশালিস্ট আশরাফুল ইসলাম। এরপর থেকেই শুরু হয় বাংলাদেশের ছড়ি ঘোরানো। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে আবারও আশরাফুলের ম্যাজিক; আরেকটি নিখুঁত পেনাল্টি কর্নারে লিড নেয় বাংলাদেশ (২-১)। তৃতীয় কোয়ার্টারে ব্যবধান ৩-১ করেন আমিরুল ইসলাম। ম্যাচের শেষ কোয়ার্টারে যখন জয়ের সুবাস পাচ্ছিল বাংলাদেশ, ঠিক তখনই নাটকীয় মোড় নেয় খেলা। ৫৯ মিনিটে দ্বীন ইসলাম ইমন গোল করে জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেললেও, শেষ মুহূর্তের অসতর্কতায় দুই গোল হজম করে বসে লাল-সবুজ রক্ষণভাগ। তবে ঘড়ির কাঁটা আর তাইপের আক্রমণভাগকে এক হতে দেয়নি বাংলাদেশের রক্ষণ। ৪-৩ গোলের শ্বাসরুদ্ধকর এক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। পুল ‘বি’র দ্বিতীয় ম্যাচে আজ শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি বাংলাদেশ। বাছাইপর্বের ৯ দলের মধ্যে সেরা ছয়ে থাকতে পারলেই মিলবে জাপানের মূল পর্বের টিকিট। জয়ে রাঙানো এই শুরুটা কি শেষ পর্যন্ত এশিয়ান গেমসের পদক খরা ঘোচানোর নতুন কোনো মহাকাব্যের ভূমিকা? ব্যাংককের আকাশ সেই উত্তর সময়ের হাতেই তুলে রেখেছে।