গ্রীষ্মের তাপপ্রবাহ আর হঠাৎ নামা বৃষ্টির এই অস্থির আবহাওয়ায় বদলে যাচ্ছে আমাদের জীবনযাত্রার ছন্দ। কখনো তীব্র রোদ, কখনো ঝুম বৃষ্টি- প্রকৃতির এই বদলে যাওয়া মেজাজের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রয়োজন স্মার্ট প্রস্তুতিও...
প্রকৃতির মেজাজ বোঝা ভার। এই কাঠফাটা রোদে ঘামছে শহর, তো পরক্ষণেই কালো মেঘের ঘনঘটা আর বৃষ্টি বলয়ের প্রভাবে বৈশাখ মাসেই দেখা মিলছে ঝুম বৃষ্টির। ঋতুচক্রের এই লুকোচুরি খেলায় আমাদের নিত্যদিনের জীবনযাত্রায় আসে নানা পরিবর্তন। রোদ আর বৃষ্টি- দুই ভিন্ন মেজাজের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে নিজেকে পরিপাটি রাখাটা একটা শিল্প। এই শিল্পের মূল রসদ হলো সঠিক অনুষঙ্গ, আরামদায়ক পোশাক এবং সচেতন রূপচর্চা। তাই ফ্যাশনপ্রেমীদের ভাবনায়, তীব্র রোদ কিংবা ঝুম বৃষ্টি যাই হোক- প্রকৃতির এই বদলে যাওয়া মেজাজের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া। তাই তো সঠিক পোশাক, অনুষঙ্গ আর সচেতন রূপচর্চা হতে পারে রোদ-বাদলের দিনে স্বস্তি ও স্টাইল ধরে রাখার কার্যকর উপায়।
ছাতা এখন ‘স্টাইল স্টেটমেন্ট’
রোদ হোক বা বৃষ্টি, আমাদের প্রধান রক্ষাকবচ হলো ছাতা। এক সময় ছাতা মানেই ছিল কেবল কালো রঙের একঘেয়ে একটি বস্তু, কিন্তু এখন তা ফ্যাশনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কড়া রোদে গাঢ় রঙের ছাতা তাপ শোষণ করে বেশি, তাই হালকা রং বা ইউভি প্রোটেকশন লেয়ার দেওয়া ছাতা বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। অন্যদিকে বৃষ্টির দিনে স্বচ্ছ বা নিয়ন রঙের ছাতাগুলো আপনার লুকে এক ধরনের সতেজতা নিয়ে আসে। কর্মব্যস্ত জীবনে ফোল্ডিং ছাতা বা তিন ভাঁজের ছোট ছাতা ব্যাগে রাখা সুবিধাজনক। তবে যারা একটু আভিজাত্য পছন্দ করেন, তারা লম্বা হান্ডেল দেওয়া ক্ল্যাসিক ‘ওয়াকিং স্টিক’ ছাতা বেছে নিতে পারেন। রোদ থেকে বাঁচতে ছাতা যেমন দরকার, তেমনি বৃষ্টিতে ভেজার পর ছাতাটি ভালো করে শুকিয়ে ভাঁজ করা জরুরি, অন্যথায় কাপড়ে তিলা পড়তে পারে বা মরচে ধরতে পারে।
দরকার আরামদায়ক পোশাক
আবহাওয়া যখন অনিশ্চিত, তখন পোশাক নির্বাচনে হতে হয় কৌশলী। রোদ-বাদলের দিনগুলোতে সুতি আর সিন্থেটিকের সঠিক সমন্বয় প্রয়োজন।
♦ রৌদ্রোজ্জ্বল দিন : প্রচণ্ড গরমে আরাম পেতে সুতি, লিনেন বা ভয়েল কাপড়ের বিকল্প নেই। এগুলো ঘাম শুঁষে নেয় এবং শরীরে বাতাস চলাচলে সাহায্য করবে। হালকা রং যেমন- সাদা, আকাশি, প্যাস্টেল পিঙ্ক বা লেমন কালার রোদে শীতল অনুভূতি দেয়।
♦ বৃষ্টির দিন : বৃষ্টির দিনে সুতি কাপড় না পরাই ভালো, কারণ একবার ভিজলে তা শুকোতে সময় নেয় এবং শরীরে সেঁটে থাকে। এক্ষেত্রে জর্জেট, শিফন বা সিল্কের মিশ্রণ রয়েছে এমন পোশাক বেছে নিন। কেননা, এগুলো দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং দাগ লাগলে সহজে পরিষ্কার করা যায়।
♦ জুতো নির্বাচন : কাদা-পানির হাত থেকে বাঁচতে রাবার বা প্লাস্টিকের তৈরি ফ্যাশনেবল ব্যালেরিনা বা জুতো এখন বেশ জনপ্রিয়। চামড়ার জুতো বৃষ্টির দিনে এড়িয়ে চলাই ভালো।
রোদ-বাদলের রূপচর্চা
আবহাওয়ার আর্দ্রতা এবং রোদের তীব্রতা-উভয়ই আমাদের ত্বক ও চুলের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। তাই এই সময়ে প্রয়োজন বাড়তি যত্ন।
১. সানস্ক্রিন মাস্ট : আকাশ মেঘলা থাকলেও আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করে। তাই ঘরের বাইরে বের হওয়ার অন্তত ২০ মিনিট আগে এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি মাত্রার সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
২. ক্লিনজিং : ঘাম আর বৃষ্টির জল মিশে ত্বকের রোমকূপ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই দিনে অন্তত দুবার ভালো ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন।
৩. ময়েশ্চারাইজিং : আর্দ্র আবহাওয়ায় অনেকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার বাদ দেন, যা ভুল। ত্বকের ধরন অনুযায়ী ওয়াটার-বেসড বা জেল ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
তা ছাড়া বৃষ্টির দিনগুলোয় আপনার বাসার ব্যবহৃত পানিও অনেক সময় অত্যন্ত দূষিত হতে পারে, যা চুলে খুশকি ও চুলকানির সৃষ্টি করে।
♦ যদি বৃষ্টিতে চুল ভিজে যায়, তবে দ্রুত শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার করে নিন।
♦ রোদে বের হওয়ার আগে চুল ঢেকে রাখুন বা ছাতা ব্যবহার করুন যাতে সান ড্যামেজ না হয়।
♦ এ সময়ে চুলে খুব বেশি কেমিক্যাল বা হিট ব্যবহার না করাই শ্রেয়।
সাজগোজ হোক আবহাওয়া উপযোগী
মেকআপের ক্ষেত্রে ‘মিনিমালিজম’ বা স্বল্পতাই এই ঋতুর মূলমন্ত্র। বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে মাসকারা, আইলাইনার এবং কাজল অবশ্যই ওয়াটার প্রুফ হওয়া চাই। আর ভারি ফাউন্ডেশন ব্যবহার না করে বিবি ক্রিম বা কেবল কনসিলার ব্যবহার করুন। এতে ঘামলেও মেকআপ নষ্ট হওয়ার ভয় কম থাকে। যেহেতু, ভোল বদলের আবহাওয়া, তাই ম্যাট লিপস্টিক এই সময়ের জন্য সেরা। তবে হালকা গোলাপি, পিচ বা ন্যুড শেডগুলো রোদবৃষ্টির দিনে বেশি মানানসই হবে।
সঙ্গে থাকা জরুরি
বদলে যাওয়া আবহাওয়ার কারণে হুটহাট বৃষ্টি বা তীব্র রোদে নাজেহাল হওয়া থেকে বাঁচতে আপনার ব্যাগে ছোট একটি কিট রাখতে পারেন-
♦ একটি ফোল্ডিং ছাতা।
♦ ওয়েট টিস্যু বা রুমাল।
♦ ছোট এক বোতল জল।
♦ একটি ছোট সানস্ক্রিন ও লিপবাম।
♦ চুল বাঁধার ক্লিপ বা ব্যান্ড।
রোদ আর বৃষ্টি- প্রকৃতির এই দুই রূপই সুন্দর যদি আমরা মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকি। সঠিক পোশাক, একটু বাড়তি যত্ন আর হাতের কাছে ছাতা থাকলে কোনো আবহাওয়াই আপনার পথের বাধা হতে পারবে না।
লেখা : ফেরদৌস আরা