Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৫ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৭ অক্টোবর, ২০১৫ ০১:১৪
সাফল্যে ভিন্ন স্বাদের ছবি
আলাউদ্দীন মাজিদ
সাফল্যে ভিন্ন স্বাদের ছবি

সেলুলয়েডের ফিতায় ওঠে আসে প্রকৃতি, পরিবার আর যাপিত জীবনের গল্প। যেখানে খুঁজে পাওয়া যায় নিজের জীবনকে। নিজের চেহারা দেখে হওয়া যায় মুগ্ধ। খুঁজে পাওয়া যায় চার পাশের চিরচেনা চিত্রকে। সুখে হাসে আর দুঃখ কাঁদে দর্শক। কারণ এসব ছবিতে মেকি বলতে কিছু নেই। নেই রঙচটা বাহুল্য। এমন ছবির অনুষঙ্গ হলো ভিন্ন স্বাদ ও অন্য মেজাজ। জীবনের সঙ্গে যার সম্পর্ক অতি নিবিড়। জীবনের সঙ্গে মিতালির সম্পর্কের কারণেই সহজে দর্শক গ্রহণযোগ্যতা, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসা এবং পুরস্কার কুড়ায় ভিন্ন স্বাদের ছবি। এমন ছবির উদাহরণ টানতে গেলে প্রথমেই আসে ‘পথের পাঁচালী’র নাম। পঞ্চাশের দশকে বরেণ্য চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় নির্মাণ করলেন এই অসাধারণ ভিন্ন আঙ্গিকের ছবিটি। এটি বানিয়ে রীতিমতো বিপ্লব ঘটালেন তিনি। পথের পাঁচালীর গুণকীর্তণে সরব হয়ে উঠল বিশ্ব। দুর্গার জীবনবোধের কথা আজও কী কেউ ভুলতে পেরেছে? নিশ্চয়ই না। এমনই আরেক জীবনবোধের গল্প উঠে আসল সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে। ১৯৭২ সালে ঋত্বিক ঘটক নির্মাণ করলেন ‘তিতাস একটি নদীর নাম’। এক অসাধারণ যাপিত জীবনের দুঃখগাথা কাহিনী। সহজেই নাড়া দিল মানুষের মনকে। তারপর আরও অনেক ভিন্ন স্বাদের ছবি মানুষের হৃদয় দখল করে অবলীলায় ইতিহাস হয়ে গেল। যেমন ‘সূর্যদীঘল বাড়ি’, ‘নয়নমনি’ বা ‘সারেং বৌ’ এর কথা এখনো চোখ বন্ধ করে বলা যায়। ভিন্নস্বাদের গল্প নিয়ে নির্মাণের ধারাবাহিকতা আজও চলছে।

আশরাফ শিশির পরিচালিত ‘গাড়িওয়ালা’ চলচ্চিত্রটি চলতি বছরের এ পর্যন্ত প্রায় ৫০টি আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রদর্শিত ও পুরস্কৃত হয়েছে। ২০১৪ সালে মুক্তি পাওয়া আবু শাহেদ ইমন নির্মিত ‘জালালের গল্প’ ছবিটি ৮৮তম অস্কার পুরস্কারেরর বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র বিভাগে মনোনীত হয় এবং প্রায় এক ডজন আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রদর্শিত ও পুরস্কৃত হয়। গত বছর মুক্তি পাওয়া জাহিদুর রহমান অঞ্জন পরিচালিত ‘মেঘমল্লার’ ছবিটি টরেন্টোসহ বহু আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত ও প্রশংসিত হয়। এর আগে ১৯৯৩ সালে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের জাতীয় পুরস্কার লাভ করে গৌতম ঘোষের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’, ১৯৯৫ সালে শেখ নেয়ামত আলীর ‘অন্যজীবন’, ১৯৯৬ সালে আখতারুজ্জামানের ‘পোকা মাকড়ের ঘর বসতি’, ১৯৯৭ সালে মোরশেদুল ইসলামের ‘দুখাই’, ১৯৯৯ সালে তানভীর মোকাম্মেলের ‘চিত্রা নদীর পাড়ে’, ২০০০ সালে আবু সাইয়িদের ‘কিত্তনখোলা’, ২০০১ সালে তানভীর মোকাম্মেলের ‘লাল সালু’, ২০০২ সালে চাষী নজরুল ইসলামের ‘হাসন রাজা’, ২০০৪ সালে তৌকীর আহমদের ‘জয়যাত্রা’, ২০০৫ সালে সুচন্দার ‘হাজার বছর ধরে’, ২০০৬ সালে কাজী মোরশেদের ‘ঘানি’, ২০০৭ সালে তৌকীর আহমদের ‘দারুচিনি দ্বীপ’, ২০০৮ সালে মুরাদ পারভেজের ‘চন্দ্রগ্রহণ’, ২০০৯ সালে সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড এর ‘গঙ্গাযাত্রা’, ২০১০ সালে খালেদ মাহমুদ মিঠুর ‘গহীনে শব্দ’, ২০১১ সালে নাসিরউদ্দীন ইউসুফ বাচ্চুর ‘গেরিলা’, ২০১২ সালে শাহনেওয়াজ কাকলীর ‘উত্তরের সুর’ এবং ২০১৩ সালে গাজী রাকায়েতের ‘মৃত্তিকা মায়া’ ভিন্ন স্বাদের চলচ্চিত্রগুলো শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে। এ চলচ্চিত্রগুলো শুধু রাষ্ট্রীয় সম্মানই অর্জন করেনি, দর্শক গ্রহণযোগ্যতাসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পুরস্কৃত ও প্রশংসিত হয়েছে।

এসব চলচ্চিত্র ছাড়াও ভিন্নস্বাদের অন্য যেসব চলচ্চিত্র দর্শক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে সেগুলো হলোÑ মুক্তির গান, দহন,  শ্রাবণ মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, চন্দ্রকথা, মেঘলা আকাশ, মাটির ময়না, আধিয়ার, ব্যাচেলর, শঙ্খনাদ, নিরন্তর, বাঁশী, একখণ্ড জমি, জয়যাত্রা, দারুচিনি দ্বীপ, রূপকথার গল্প, আহা, মেঘের কোলে রোদ, আমার আছে জল, মনপুরা, টেলিভিশন, ঘেটুপুত্র কমলা, অন্তর্ধান, পিঁপড়া বিদ্যা, জিরো ডিগ্রী, ছুঁয়ে দিলে মন, পদ্মপাতার জল ইত্যাদি।

 

এই পাতার আরো খবর
up-arrow