রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে বসুন্ধরা শুভসংঘ শাখার উদ্যোগে ব্যতিক্রমধর্মী, বর্ণিল ও আনন্দঘন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে আয়োজিত এই উৎসবমুখর অনুষ্ঠানে ছিল প্রাণের উচ্ছ্বাস, সংস্কৃতির মেলবন্ধন এবং ঐক্যের বার্তা। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ঐতিহ্যবাহী পান্তা-ইলিশের আপ্যায়ন, প্রবন্ধ পাঠ, গান পরিবেশন এবং লোকজ খেলাধুলা। গোল্লাছুট ও হাড়িভাঙা খেলায় অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা ফিরে যায় শিকড়ের টানে গ্রামীণ বাংলার চিরচেনা আবহে, যা উপস্থিত সকলের মাঝে উৎসবের আমেজ আরও বাড়িয়ে তোলে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক প্রশান্ত কুমার পোদ্দার। তিনি তার বক্তব্যে পহেলা বৈশাখের ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক গুরুত্ব এবং বাঙালির জীবনধারায় এর গভীর প্রভাব নিয়ে আলোকপাত করেন।
তিনি বলেন,পহেলা বৈশাখ শুধু একটি উৎসব নয়, এটি আমাদের বাঙালি পরিচয়ের মূল ভিত্তি—যেখানে ধর্ম, বর্ণ, ভেদাভেদ ভুলে আমরা এক হয়ে উঠি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য বাবুল হোসাইন, প্রভাষক, সংগীত বিভাগ এবং সাবেকুন খালেক সুবা, প্রভাষক, বাংলা বিভাগ। অনুষ্ঠানে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাহেদ আক্তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নববর্ষের তাৎপর্য তুলে ধরে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান।
তিনি বলেন, নতুন বছর মানে নতুন স্বপ্ন, নতুন সম্ভাবনা—এই চেতনায় আমরা এগিয়ে যাবো ঐক্য ও মানবিকতার পথে।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ পাঠ করেন প্রচার সম্পাদক মো. ফেরদৌস হোসেন। তার প্রবন্ধে বাংলা নববর্ষের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও সাংস্কৃতিক দিকগুলো সুচারুভাবে তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, বাংলা নববর্ষ আমাদের শিকড়ের সঙ্গে সংযোগ ঘটায়, মনে করিয়ে দেয় আমরা কারা এবং আমাদের সংস্কৃতির গভীরতা কতটা বিস্তৃত।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন আকাশ রায়, মোমো রায়, গণেশ চন্দ্র রায়, আরেফিন, পায়েলসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা। তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও সফল।
সার্বিকভাবে বসুন্ধরা শুভসংঘ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় শাখার এই আয়োজন নতুন প্রজন্মের মাঝে বাংলা সংস্কৃতির চর্চা ও চেতনাকে আরও জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিডি প্রতিদিন/কামাল