শিরোনাম
প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৯:৫১

শেরে-ই বাংলা মেডিকেলের ১০ ভেন্টিলেটর মেশিন ২ বছরেই অকেজো

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

শেরে-ই বাংলা মেডিকেলের ১০ ভেন্টিলেটর মেশিন ২ বছরেই অকেজো

২০১৭ সালের ২৩ জুলাই মুমূর্ষু রোগীদের জীবন রক্ষায় ১০টি ভেন্টিলেটর (কৃত্রিম উপায়ে শ্বাস-প্রশ্বাস চালু রাখা) মেশিনসহ বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেলে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র বা ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) চালু হয়েছিল। কিন্তু গত দুই বছরে ৯টি মেশিনই অকেজো হয়ে যায়। 

সবশেষ গত মঙ্গলবার চালু থাকা একমাত্র ভেন্টিলেটর মেশিনটি বিকল হয়ে যায়। আর শেষ সম্বলটি অকেজো হয়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার বিনা চিকিৎসায় অকালে ঝড়ে পড়েছেন শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজের-ই ৪১তম ব্যাচের ছাত্র ডা. মারুফ হোসেন নয়ন (৩০)। ডা. নয়নকে মুমূর্ষু অবস্থায় জরুরি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে না পাড়ায় খোদ এই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ না পাওয়ায় নতুন ভেন্টিলেটর মেশিন সংগ্রহ কিংবা পুরনো অকেজো মেশিনগুলো সচল করা যায়নি বলে নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন।  

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০১৭ সালের ২৩ জুলাই শেরে-ই বাংলা মেডিকেলে ১০টি ভেন্টিলেটরসহ একটি নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র বা আইসিইউ চালু হয়। ১০টি আইসিইউ বেড এবং একটি সেন্ট্রাল মনিটর নিয়ে চালু হওয়া আইসিইউ পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষিত নার্সের ব্যবস্থাও করা হয়। চিকিৎসক সংকট থাকলেও উদ্বোধনের পর থেকে জোড়াতালি দিয়ে চলছিলো আইসিইউ’র কার্যক্রম। 

আইসিইউ ওয়ার্ডে দায়িত্বরত সেবক ও সেবিকারা বলেন, গত ২ অক্টোবর আইসিইউ ওয়ার্ডে নতুন নার্সিং ইনচার্জ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ওই সময় তিনি ১০টি ভেন্টিলেটরের মধ্যে দু’টি সচল অবস্থায় পান। কয়েক দিনের মধ্যে আরও একটি মেশিন বিকল হয়ে যায়। অবশিষ্ট থাকা একমাত্র ভেন্টিলেটর দিয়ে গত ২ মাসেরও অধিক সময় ধরে মুমূর্ষু রোগীদের সেবা দেয়া হচ্ছিল। কিন্তু শেষ সম্বল একমাত্র ভেন্টিলেটরটিও হঠাৎ মঙ্গলবার বিকল হয়ে যায়। ওইদিন এই মেডিকেলের কলেজের সাবেক ছাত্র ডা. নয়ন অসুস্থ্য হয়ে পড়লে কৃত্রিমভাবে তার শ্বাস-প্রশ্বাস চালু রাখতে গিয়ে একমাত্র ভেন্টিলেটর মেশিনটি অকেজো অবস্থায় পান চিকিৎসকরা। এ কারণে তাকে বাঁচাতে পারেনি চিকিৎসকরা। 

আইসিইউ’র দায়িত্বে থাকা সহকারী অধ্যাপক ডা. নাজমুল হুদা বলেন, মঙ্গলবার সকাল ১০টার পর থেকে সচল থাকা মাত্র একটি ভেন্টিলেটর মেশিনটি অচল হয়ে যায়। প্রয়োজনীয় সেবা দিতে না পাড়ায় মুমূর্ষু রোগী ডা. নয়নের মত্যু হয়। ডা. নয়ন বরিশাল ডায়াবেটিক হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। তিনি ভোলা শহরের মোশারফ হোসেনের একমাত্র ছেলে ছিলেন। 

শেরে-ই বাংলা মেডিকেলের পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন বলেন, আইসিইউ’র ভেন্টিলেটর মেশিন অকেজো হওয়ার বিষয়টি একাধিকবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু এর কোন সমাধান পাওয়া যায়নি। বরং যন্ত্রপাতি ক্রয়ে দুর্নীতির অভিযোগ এনে মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তর হাসপাতালের বরাদ্দও বন্ধ করে দিয়েছে। এ কারণে পুরনো মেশিন সচল কিংবা নতুন ভেন্টিলেটর ক্রয় করা সম্ভব হয়নি। 

পরিচালক বলেন, আইসিইউ’র বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে কথা বলার চেষ্টা করবেন। মন্ত্রী বরাদ্দের ব্যবস্থা করলে আইসিইউ পুনরায় সচল হবে। বরাদ্দ না পেলে আইসিইউ সচলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কিছুই করার থাকবে না।


বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর