শিরোনাম
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২০:৫৩

‘জটিলতা বাড়াবে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক :

‘জটিলতা বাড়াবে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা’

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বিত পরীক্ষা আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলেছেন, ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমানোর জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এতে জটিলতা বাড়বে বৈ কমবে না। 

রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনে আয়োজিত ‘সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা : ছাত্র-শিক্ষকদের ভাবনা ও প্রস্তাবনা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এই মত ব্যক্ত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এতে বক্তব্য রাখেন অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. রুশাদ ফরিদী, ডাকসু ভিপি নুরুল হক ও সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। 

সভায় ভিপি নুরুল হক বলেন, সামগ্রিক বিবেচনায় সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা একটি ভালো উদ্যোগ হলেও আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এটি বাস্তবায়নযোগ্য নয়। সমন্বিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষা নিলে প্রশ্নপত্র, খাতা মূল্যায়নের মান কোনোকিছুই ঠিক রাখা যাবে না। এছাড়া নিজ নিজ এলাকায় পরীক্ষাকেন্দ্র পড়ায় সেখানে স্থানীয় ও রাজনৈতিক প্রভাব রাখার সুযোগ তৈরি হবে। এতে করে বিতর্কিত একটি প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উঠে আসবে।

ড. রুশাদ ফরিদী বলেন, সমন্বিত পরীক্ষার চালুর আগে ইউজিসি কোনো ধরনের গবেষণা বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করার প্রয়োজনবোধ করেননি। সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার দিনে যদি কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে বা কোনো কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারে, তাহলে সারাজীবনের জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ হারাবে। এর দায় কে নেবে?  

তিনি বলেন, ইউজিসিতে কিছু লোক আছে, যারা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চান। সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার বিকল্প হিসেবে তিনি অঞ্চলভিত্তিক পরীক্ষা চালুর প্রস্তাব দেন। 

‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কীভাবে তাদের শিক্ষার্থী বাছাই করবে-তা নির্ধারণ করে দেওয়া ইউজিসির কাজ নয়’ উল্লেখ করে সভায় শিক্ষার্থীরা বলেন,  সমন্বিত পরীক্ষা চাপিয়ে দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্বশাসনের ধারণার পরিপন্থী। অনেক ক্ষেত্রে মেডিকেলকে সমন্বিত পরীক্ষার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু মেডিকেল শিক্ষার পরিসর ও ধরণ কোনোটির সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিল নেই। ফলে সেটিকে উদাহরণ হিসেবে নেওয়া অনুচিত।

তারা বলেন,  সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের সুযোগ বেড়ে যাবে। তাছাড়া পরীক্ষায় যদি প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ না হয়, তাহলে কী অনুত্তীর্ণদের মধ্যে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থী ভর্তি নেবে? এই পরীক্ষায় দ্বিতীয়বার অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে কিনা তাও বলা হয়নি। সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা চালুর অন্যতম কারণ হলো এর যাতায়াত ভোগান্তি লাঘব। কিন্তু মাইগ্রেশন সুবিধা চালু থাকলে সেক্ষেত্রে যাতায়াতের ভোগান্তিও খুব বড় পরিসরে কমবে না। 

তবে, সমন্বিত পদ্ধতির পরিবর্তে ফরমের মূল্য হ্রাস, তারিখ ও এলাকা সমন্বয়ের মাধ্যমে বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরীক্ষা একসাথে অনুষ্ঠানের প্রস্তাব দেন শিক্ষার্থীরা। 

বিডি-প্রতিদিন/শফিক


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর