সিলেটে দিনদুপুরে মোটরসাইকেলে এসে অটোরিকশা আটকে এক নারীর ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়েছে ছিনতাইকারীরা। ছিনতাইয়ের এ দৃশ্য ধরা পড়েছে ওই এলাকার একাধিক সিসিটিভির ক্যামেরায়।
গত মঙ্গলবার নগরের হাউজিং এস্টেট এলাকায় ছিনতাইয়ের এ ঘটনা ঘটে। রাতে ছিনতাইয়ের ভিডিও ভাইরাল হলে নগরজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। তবে ছিনতাইকারীদের ভিডিও ও ছবি হাতে পেয়েও অপরাধী শনাক্ত করতে পারছে না পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, নগরে নতুন অপরাধী চক্র আশ্রয় নিয়েছে। এর আগেও বহিরাগত অপরাধী চক্রের কয়েকজন সদস্য পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, হাউজিং এস্টেটের ভেতরের সড়ক দিয়ে সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশা যাচ্ছিল। এ সময় তিনটি মোটরসাইকেলে এসে ৬ জন লোক ওই অটোরিকশার গতিরোধ করে নারী যাত্রীর ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। এ সময় ওই নারী চিৎকার করলেও কেউ এগিয়ে আসেনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হাউজিং এস্টেট এলাকার বাসিন্দা ওই নারী ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। ছিনতাইকারীরা ব্যাগে থাকা তার টাকা ও চেকবইয়ের কয়েকটি পাতা ছিনিয়ে নেয়। তবে ওই নারীর নাম জানা সম্ভব হয়নি।
ওই এলাকার সাবেক সিটি কাউন্সিলর ও মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী জানান, ছিনতাইয়ের ঘটনা শোনার পরপরই সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। ছিনতাইকারীদের দ্রুত গ্রেফতারে পুুলিশ কমিশনারের সঙ্গেও কথা হয়েছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অফিসার, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ছিনতাইর ঘটনা ও জড়িতদের সিসিটিভি ফুটেজ ও ছবি সংগ্রহ করা হয়েছে। বিভিন্ন সোর্স দিয়ে যাচাই করা হয়েছে কিন্তু এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কেউ পুলিশের খাতার পুরোনো অপরাধী নয়। ছিনতাইকারীদের শনাক্তে গোয়েন্দা তৎপরতা ও প্রযুক্তির সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, এর আগে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা তদন্তে নেমে বহিরাগত চোর চক্রের সন্ধান পায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ। পরে সিলেট জেলার বাইরে থেকে ওই চক্রের কয়েকজন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। ওই চক্রের সদস্যরা সিলেট নগর থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে বাইরে নিয়ে যেত। আবার বাইরের চুরির মোটরসাইকেল এনে সিলেটে বিক্রি করত।
পুলিশের ধারণা, হাউজিং এস্টেটের ছিনতাইর ঘটনা সঙ্গে জড়িতরা নতুন অপরাধী চক্রের সদস্য। এরা নগরের বাইরে থেকে এসে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটাতে পারে।
বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি