সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে দানবাক্সের টাকা গণনা করা হচ্ছে। সোমবার দুপুর আড়াইটা থেকে মাজারে রাখা সিল করা ডেকচির ঢাকনা খুলে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রম শুরু করা হয়। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ ঘিরে মাজার প্রাঙ্গণে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল দেখা দিয়েছে।
যোহরের নামাজের পর মাজার প্রাঙ্গণে এসব দানবাক্স ও ডেগের তালা খুলেন সিলেটের সদ্য সাবেক জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম। এসময় ভেতরে জমা হওয়া অর্থ বের করা হয়।
সিলেট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল বাছিত মোল্লা জানান, সোমবার সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম শাহজালাল (রহ.) মাজারে যোহরের নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে দুপুর ২টার দিকে প্রশাসনের উপস্থিতিতে সিলগালা করা ডেগ ও দানবাক্সের তালা খোলা হয়। এসময় ডেগ ও দানবাক্স থেকে বস্তাভর্তি টাকা বের করা হয়। পরে সেগুলো গণনার জন্য নির্ধারিত স্থানে নেওয়া হয়। বিকাল ৪টা পর্যন্ত টাকার গণনা কার্যক্রম চলমান ছিল বলে জানা গেছে।
তিনি আরও জানান, দানের অর্থ গণনা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে মোট প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ প্রকাশ করা হবে।
এর আগে শুক্রবার (১২ জুন) বেলা দেড়টার দিকে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার পরিদর্শনে যান সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দানবাক্সে তালা দেওয়া হয়। এরপর বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকাল ৪টার দিকে সিলেট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল বাছিত মোল্লার নেতৃত্বে সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের ৩টি ডেগে সিলগালা করা হয়। এসময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বড় একটি প্রধান দানবাক্সসহ ছোট-ছোট আরও কয়েকটি দানবাক্স মাজারের বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে। পাশাপাশি এই দানবাক্সের নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্যদের নিয়োগ দেওয়া পরবর্তীতে মাজারের দানবাক্সের উপরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়।
বিডি প্রতিদিন/এআরএ