শিরোনাম
প্রকাশ : ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৯:১৪

চট্টগ্রাম-৮ উপনির্বাচন: আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ১৯ নেতা

সাইদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম-৮ উপনির্বাচন: আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ১৯ নেতা

চট্টগ্রাম-৮ আসনের (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ১৯ নেতা সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। 

সোমবার গণভবনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী মনোনয়ন বোর্ড তাদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে। আজ রাতে অথবা আগামীকাল মঙ্গলবার চূড়ান্ত নাম ঘোষণা করার কথা রয়েছে। ফলে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ভাগ্য নির্ধারণে এখন ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছে বলে জানা যায়।        

দলীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার ১৯ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী ফরম জমা দিয়ছেন। এর মধ্যে প্রায় সকলেই দলীয় নির্বাচনী মনোনয় বোর্ডে সাক্ষাৎকার দেন। তবে ১৯ জনের মধ্যে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমেদ, প্রয়াত মঈনুদ্দিন খান বাদলের স্ত্রী সেলিনা খান বাদল এবং নগর আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক আবদুচ ছালাম আলোচনার শীর্ষে আছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়।   

আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা উপ-কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন সাকিব বলেন, ‘মনোনয়ন সংগ্রহ করা ১৯ জন নেতা সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। আজ রাতে অথবা আগামীকাল মঙ্গলবার চূড়ান্ত নাম ঘোষণা করা হতে পারে। আশা করি, দল যাকে মনোনয়ন দেবে নেতাকর্মীরাও তার পক্ষে কাজ করবেন।’

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে মহাজোটসহ দলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন প্রয়াত মঈন উদ্দীন খান বাদলের স্ত্রী সেলিনা খান বাদল, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম বিএসসি, কোষাধ্যক্ষ ও সিডিএর সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, বিএনএফের চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা ও আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য মোহাম্মদ এমরান, নুরুল ইসলাম বিএসসির বড় ছেলে মুজিবুর রহমান, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান, এস. এম. কফিল উদ্দিন, দিলোয়ারা ইউসুফ, সাবেক কাউন্সিলর বিজয় কৃষাণ চৌধুরী, পারভেজ হাসান মান্নান, এটিএম রিয়াজ খান ও আশেক রসুল খানসহ ১৯ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।  

তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ত্যাগী ও সাংগঠনিক নেতাদের সঙ্গে সঙ্গে এখন মনোনয়ন পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে থাকেন না এমন নেতাও। ইতোমধ্যে দলীয় অনেক নেতাই ফরম সংগ্রহ করেছেন। তবে এসব বিষয়ে কেন্দ্র থেকে শুরু করে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা নানাভাবে আলোচনা-সমালোচনা করছেন।

তৃণমূলের অনেক ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতারা বলছেন, দলীয় ফরম সংগ্রহে একাধিক নেতার নাম শুনা গেলেও এসব নেতাদের মাঠের দুঃসময়ের রাজনীতির মাঠে কোন সময় দেখা যায়নি। তবুও তারা কিভাবে দলীয় ফরম সংগ্রহ করছেন সেটা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। যারা দলীয় ফরম সংগ্রহ করেছেন, তাদের মধ্যে ত্যাগী, নির্যাতিত, যোগ্যতা সম্পন্ন, বির্তকবিহীন যোগ্য ব্যক্তিই মনোনয়ন পাক-এমন প্রত্যাশা সবার।

প্রসঙ্গত, ২০০৮ সাল থেকে বোয়ালখালী আসনে তিনবার নৌকা প্রতীক নিয়ে জয়লাভ করেছিলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) একাংশের সভাপতি মইন উদ্দীন খান বাদল। গত ৭ নভেম্বর ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। তার মৃত্যুতে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এই শূন্য আসনে আগামী ১৩ জানুয়ারি উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তফসিল অনুযায়ী, উপনির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ১২ ডিসেম্বর। বাছাই ১৫ ডিসেম্বর এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহার ২২ ডিসেম্বর।  


বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য

close