শিরোনাম
প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৯:৫৭

অপরিপূর্ণ শিশু জন্মের পরই চোখ পরীক্ষা করা জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

অপরিপূর্ণ শিশু জন্মের পরই চোখ পরীক্ষা করা জরুরি

চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ট্রাস্টের ম্যানেজিং ট্রাস্টি, আইএইচএল এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন বলেন, ‘নবজাতক ভূমিষ্ঠের সঙ্গে সঙ্গেই প্রাথমিকভাবে একজন প্রসূতি ও নবজাতক বিশেষজ্ঞের নজরে আসে শিশুর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। কিন্তু ক্ষেত্রবিশেষ সদ্যভূমিষ্ঠ শিশুর চক্ষু পরীক্ষা করাও জরুরি। বিশেষত অপরিপূর্ণ শিশুর ক্ষেত্রে।

এসময় তিনি আরও বলেন, রেটিনোপ্যাথি (আরওপি) অব প্রি-ম্যাচুউর (অপরিপূর্ণ) সাধারণত গর্ভধারণের পর ৩৮-৪১ সপ্তাহের মধ্যে শিশু জন্মগ্রহণ করার কথা। কিন্তু যেসব শিশু গর্ভধারণের পর ৩৭ সপ্তাহের আগে জন্মগ্রহণ করে, তারাই অপরিপূর্ণ নবজাতক। এসব নবজাতকের নানা রকম শারীরিক সমস্যা দেখা যায়। এর মধ্যে চোখের সমস্যা অন্যতম। তাই জন্মের পর পরই অপরিপূর্ণ শিশুর চোখ পরিক্ষা করা জরুরি।’  

মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইমরান সেমিনার হলে ‘অপরিপূর্ণ শিশুর চোখের সমস্যা এবং ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   

চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. সামস মোহাম্মদ নোমানের উপস্থাপনায় অপরিপূর্ণ শিশুর চোখের ব্যবস্থাপনার উপর প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ শামীম হাসান, উপধ্যাক্ষ প্রফেসর ডা. নাসির উদ্দিন মাহমুদ, চমেক হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. শাহানারা চৌধুরী, আইএইচএল এর কনসালটেন্ট ডা. ফয়সাল আহমদ, চমেক হাসপাতালের নবজাতক বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. জগদীশ চন্দ্র দাশ, চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালের সহকারী কনসালটেন্ট ডা. সাহেলা শারমিন, অরবিস ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মুনির আহমেদ প্রমুখ। 

সেমিনারে উপস্থাপনা করেন চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালের সিনিয়র সহকারী সার্জেন্ট ডা. উম্মে সালমা আকবর।

চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. রবিউল হোসেন বলেন, ‘শিশুর জন্মের মাত্র কয়েক দিন আগে চক্ষু গোলক পরিণত হয়। অপরিণত শিশুর চোখও অপরিণত থাকে। ফলে নানা রোগ দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে চোখের রেটিনার যে বিশেষ পরিবর্তন ও সমস্যা দেখা দেয়, তাই রেটিনোপ্যাথি (আরওপি) অব প্রি-ম্যাচুরিটি। এটা এমন রোগ, যা কিছু কিছু অপরিপূর্ণ নবজাতকের রেটিনা ও এর রক্তনালিকে আক্রান্ত করে। যেসব অপরিপূর্ণ নবজাতক জটিল সমস্যার জন্য নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকে। তাদের (আরওপি) এর লক্ষণ দেখা দেয় এবং তাদের রক্তনালি অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে। ফলে রেটিনায় রক্তক্ষরণ হয় এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে রেটিনা ছিঁড়ে যায়। এ সময় চিকিৎসা না নিলে ছয় মাসের আগেই শিশু পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যেতে পারে।’

সেমিনারে বক্তারা বলেন, প্রিম্যাচুউর শিশুদের মধ্যে যারা বেঁচে থাকে তারাও পরে নানা রোগে ভোগে। এদের মধ্যে চোখের সমস্যাও রয়েছে। শিশুদের চোখের সমস্যা স্থায়ী হয়ে যাওয়ার কারণ সঠিক সময়ে তাদের চোখ বা দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করা হয় না। এ সমস্যা দিনের পর দিনের বাড়ছে। শিশুদের দৃষ্টিশক্তি কম থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে যতক্ষণ তারা কথা না বলে বুঝাতে পারছে, ততক্ষণ তাদের অভিভাবকরা বুঝতেই পারেন না, তার শিশুর চোখের দৃষ্টিশক্তি কেমন। এ ব্যাপারে ছোট থেকেই শিশুদের চোখের প্রতি নজর দিতে হবে অভিভাবকদের। যেসব নবজাতক ৩৫ সপ্তাহের আগে জন্মগ্রহণ করে এবং যাদের ওজন দুই কেজির কম তাদের জন্মের তিন-চার সপ্তাহের মধ্যে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রেটিনা বিশেষজ্ঞ দ্বারা এনআইসিইউতে রেটিনা পরীক্ষা করাতে হবে। রেটিনা পরিপূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এক বা দুই সপ্তাহ পর পর পরীক্ষা করাতে হবে। পরীক্ষায় আরওপি ধরা পড়লে লেজার চিকিৎসা করাতে হবে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপারেশনও লাগতে পারে। 

মনে রাখতে হবে, সময় মতো (অবশ্যই জন্মের ৩০ দিনের মধ্যে) অপরিপূর্ণ নবজাতকের চক্ষু পরীক্ষা ও সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমে শিশুকে সম্ভাব্য অন্ধত্ব থেকে বাঁচানো যায়।’


বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য

close