Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ৪ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:২৫

এলপি গ্যাস ক্রস ফিলিংয়ের রমরমা বাণিজ্য চট্টগ্রামে

বাড়ছে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ প্রতারিত হচ্ছেন গ্রাহক

মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম

এলপি গ্যাস ক্রস ফিলিংয়ের রমরমা বাণিজ্য চট্টগ্রামে

চট্টগ্রামে খোলাখুলিভাবেই চলছে লিকুইড পেট্রোলিয়াম (এলপি) গ্যাস ‘ক্রস ফিলিং’-এর রমরমা বাণিজ্য। বেপরোয়া ক্রস ফিলিং চলতে থাকায় অর্থাৎ বড় সিলিন্ডার থেকে ছোট সিলিন্ডারে ভরার ফলে বাড়ছে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ। একই সঙ্গে ওজনে কম দেওয়ার ফলে গ্রাহকরা হচ্ছেন প্রতারিত। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক সামসুল আরেফিন বলেন, ‘যারা ক্রস ফিলিং করে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করছে তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হবে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ ক্যাব-চট্টগ্রাম সভাপতি এ কে এম নাজের অভিযোগ করে বলেন, ‘দেশের নামিদামি প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম ব্যবহার করে কয়েকটি প্রতারক চক্র নিম্নমানের এবং কম ওজনের সিলিন্ডার গ্যাস বাজারজাত করছে। বিষয়টি নিয়ে বিপিসির কাছে অভিযোগও করেছি। কিন্তু প্রতিকার করেনি বিপিসি।’

বসুন্ধরা এলপি গ্যাস লিমিটেডের চট্টগ্রাম এরিয়া সেলস ইনচার্জ একরামুল হক জুয়েল বলেন, ‘চট্টগ্রামের কয়েকটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে বসুন্ধরাসহ কয়েকটি নামি কোম্পানির সুনাম ক্ষুণ্ন করতে সিলিন্ডারের বোতলে ওজন কমিয়ে ক্রস ফিলিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। ক্রস ফিলিংয়ে ভরা গ্যাস ব্যবহার করলে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের আশঙ্কা থাকে বেশি। তাই ফিলিং করা গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার না করাই উচিত।’

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতারক চক্র বাজার থেকে ৪৫ ও ৩৪ কেজি ওজনের সিলিন্ডার গ্যাসের বোতল সংগ্রহ করে। পরে তা ক্রস ফিলিংয়ের মাধ্যমে সিলিন্ডার থেকে পাইপ দিয়ে সাড়ে ১২ কেজি ওজনের সিলিন্ডারে স্থানান্তর করে। তবে সাড়ে ১২ কেজি ওজনের সিলিন্ডারে পুরো গ্যাস না দিয়ে ৮ থেকে ৯ কেজি গ্যাস দেওয়া হয়। এতে প্রতি সিলিন্ডারেই ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত মুনাফা করে প্রতারক চক্র। ওজনে কম দিয়ে ক্রসি ফিলিং করার পর পরবর্তীতে তা বসুন্ধরা, টোটাল, ওমেরা, লাভর্স এবং পেট্রিগ্যাসসহ অন্যান্য কোম্পানির নাম ব্যবহার করে বাজারজাত করে। তা চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় বাজারজাত করা হয়। চট্টগ্রামে এভাবে ক্রস ফিলিংয়ের রমরমা বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির নাম ওঠে এসেছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্রস ফিলিং করে নগরীর তাহের শাহ এন্টারপ্রাইজ। এ ছাড়া ক্রস ফিলিংয়ের সঙ্গে জড়িত উল্লেখযোগ্য অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিরা হলো- খাজা এন্টারপ্রাইজ, আল ফালাহ ট্রেডিং, চিটাগাং গ্যাস ট্রেডিং, শিকদার এন্টারপ্রাইজ, সেলিম এন্টারপ্রাইজ, তাহের শাহ এন্টারপ্রাইজ, বিন হাবিব, চকরিয়ার তৌহিদুল আলম, শান্তিরহাটের পারভেজ, লোহাগাড়ার নঈম উদ্দিন অন্যতম।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর