শিরোনাম
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি, ২০২০ ১৯:১২

বোয়ালমারীতে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :

বোয়ালমারীতে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার সকালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। রবিবার রাতে উপজেলার রুপাপাত ইউনিয়নের মোড়া গ্রামে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে গৃহবধূ আয়শা বেগমকে পিটিয়ে ও বৈদ্যুতিক তারের উপর ফেলে দিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তিনজন। তাদের আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

আয়শা বেগমের স্বামী ফরহাদ মৃধা মোবাইল ফোনে বলেন, তার বাড়ির উত্তর পাশে হারুন মৃধার গমের ক্ষেতে কীটনাশক দিলে তার কয়েকটি হাঁস-মুরগি মারা যায়। স্থানীয় মাতব্বরদের নিকট নালিশ দিয়ে প্রতিকার না পেয়ে এ ব্যাপারে তিনি নিকটবর্তী ডহরনগর পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হারুন মৃধা বোয়ালমারী থানায় ফরহাদ মৃধা ও তার বাবা ওহাব মৃধার নামে পাল্টা নারী নির্যাতনের লিখিত অভিযোগ দেন। এরই জের ধরে রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হারুন মৃধা, আতিয়ার মৃধা, শোভন মৃধাসহ কয়েকজন তার বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রী আয়শা বেগমকে এলোপাথাড়ি মারপিট করে ও টেনেহিঁচড়ে পার্শ্ববর্তী মুন্নু মৃধার মুসুরি ক্ষেতে বিদ্যুতের তারের ওপর ফেলে দেয়। এতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনি ঘটনাস্থলে মারা যান। পরে তাকে উদ্ধার করে আলফাডাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আহত হয় সুমি বেগম, রাজিয়া বেগম ও ইব্রাহিম মৃধা। বর্তমানে তারা আলফাডাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ক্ষেত মালিক মুন্নু মৃধা, আতিয়ার মৃধা ও তার পরিবারের লোকজন পলাতক রয়েছে। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হারুন মৃধাকে আটক করেছে।

আতিয়ার মৃধা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ময়না তদন্তে যদি প্রমাণ হয় যে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে তা হলে তারা দোষী। পুলিশও যদি তদন্ত করে তাদের সম্পৃক্ততা পায় তাহলে  তারা দোষী হবে। তবে তিনি দাবি করেন বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে আয়শার মৃত্যু হয়েছে। 

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুর রহমান বলেন, বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে মারা যেতে পারে। আবার ফাঁদ পেতেও হত্যা করা হতে পারে। যেহেতু দুটি পক্ষের মধ্যে ক্ষেতে কীটনাশক দেয়া এবং হাঁস-মুরগির মৃত্যু নিয়ে বিবাদ ও থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

বিডি-প্রতিদিন/শফিক


আপনার মন্তব্য