শিরোনাম
প্রকাশ : ৮ মার্চ, ২০২১ ১৩:১৫
প্রিন্ট করুন printer

বগুড়ায় জমিতে ফসল থাকতেই দাম উঠল কৃষকের ঘরে

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া

বগুড়ায় জমিতে ফসল থাকতেই দাম উঠল কৃষকের ঘরে

মুখে মিষ্টি হাসি নিয়ে নানা ধরনের গান গেয়ে ফসল তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বগুড়ার যমুনাপাড়ের কৃষক। ফসলের ন্যায্য দাম তার মিষ্টি হাসির বহিঃপ্রকাশ। সারিয়াকান্দিতে লোকসানের ভয়ে প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া খেরাছী এখন কৃষকদের কাছে অত্যন্ত লাভজনক অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে। 

পূর্বে খেরাছীর ব্যবহার কম থাকলেও বর্তমান সময়ে পশু পাখির খাদ্য হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এ জাতীয় ফসল। ফলে বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় ভাল দাম পাচ্ছেন কৃষকরা। পাইকারি ফরিয়ারা কৃষকদের বাড়ী বাড়ী যাচ্ছেন খেরাছী ক্রয় করতে। কেউ কেউ জমিতে থাকা ফসলই চুক্তিতে ক্রয় করছেন। সারিয়াকান্দি সদর ইউনিয়নের চান্দিনা নোয়ারপাড়া গ্রাামের কৃষক লুৎফর রহমান ডাবলু বলেন, আমার আঠার শতক জমিতে খেরাছী থাকতেই পাইকাররা এর দাম বাবদ আমাকে ১৪হাজার টাকা দিয়েছে। এছাড়াও উক্ত জমি হতে যে খেরাছীর খড় পাব তাও বাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রয় করতে পারব।

সারিয়াকান্দি বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ জনান, বর্তমানে আমরা খেরাছী দুইহাজার টাকা হতে তিনহাজার টাকা মণ পর্যন্ত ক্রয় করছি। মৌসুম ছাড়া খেরাছীর বাজার মণে চার টাকার উপরে উঠে যায়। উপজেলার ১২টি ইউনিয়নেই খেরাছী চাষ হলেও সর্বাধিক বেশি চাষ হয় চরাঞ্চলে। 

চরগুলোর মধ্যে চালুয়াবাড়ী, কাজলা, বোহাইল, কর্নীবাড়ী প্রভূতি ইউনিয়নের চরগুলোতে খেরাছীর বাম্পার ফলন লক্ষণীয়। সাধারণত কার্তিক মাসে অপেক্ষাকৃত বেলে দোআঁশ মাটিতে বীজ ছিটিয়ে বপন করতে হয়। এখন পুরোদমে চলছে ক্ষেত হতে খেরাছী সংগ্রহের কাজ। প্রতি বিঘা জমিতে এর ফলন প্রায় চার হতে পাঁচ মণ হয়। 

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হালিম জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি বছরে উপজেলার ৫০ হেক্টর জমিতে খেরাছীর বাম্পার ফলন হয়েছে। একদিকে এ ফসল জমিতে বপন করার পর তেমন কোন পরিচর্যা করা লাগে না, ফলে উৎপাদন খরচ খুবই কম। 

অপরদিকে বাজারে ভাল দাম থাকায় কৃষকরা ব্যাপকভাবে লাভবান হচ্ছেন। এ কারণে কৃষকরা পতিত জমিতে খেরাছী চাষের দিকে ঝুঁকে পরছেন।


বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর