জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে গতিশীল করা এবং অধিভুক্ত কলেজগুলোর শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভোগান্তি কমাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে আঞ্চলিক কেন্দ্র স্থাপন করছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এরই ধারাবাহিকতায় ঝিনাইদহে নতুন আঞ্চলিক কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়েছে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহ সদরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এবং ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। এখান থেকে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও মাগুরা জেলার কলেজগুলোর কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
উদ্বোধন উপলক্ষে সরকারি কেশবচন্দ্র কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গত ১৫ বছরে অর্থের বিনিময়ে চাকরি দেয়াসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে। এসব দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এমন সাহস না পায়।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন নতুন বিষয়ে অনার্স, মাস্টার্স ও প্রফেশনাল কোর্স চালু এবং আসন বৃদ্ধি করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ঝিনাইদহসহ সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর শিক্ষার মানোন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।
সভাপতির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, উচ্চশিক্ষাকে জীবনমুখী ও যুগোপযোগী করতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। সিলেবাস সংস্কার, আইটি দক্ষতা বৃদ্ধি, মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মশালা এবং শিক্ষকদের গবেষণায় আর্থিক সহায়তা প্রদানের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি জানান, অধিভুক্ত কলেজের ৫০ হাজার ছাত্রীকে নিজস্ব খরচে ফ্রিল্যান্সার হওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে ছাত্ররাও একই সুযোগ পাবে।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন—গণঅধিকার পরিষদের ঝিনাইদহ জেলা শাখার সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন, জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির অধ্যাপক আলী আজম মো. আবু বকর, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, সরকারি কেশবচন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. আবু বক্কর সিদ্দিকী, ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাহফুজ হোসেন ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল।
ঝিনাইদহ, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়ার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ১৩০টি কলেজের অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল