গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বিয়ের পরদিনই এক নবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ওই নববধূর স্বামীকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
রবিবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাদশা আলম। এর আগে শনিবার বিকালে সাড়ে ৫টার দিকে আদালতের মাধ্যমে তাকে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৭ আগস্ট আসিফ মিয়ার সঙ্গে ওই তরুণীর বিয়ে হয়। পরদিন ২৮ আগস্ট দিবাগত রাতে, বাসর ঘরেই তিনি যৌন নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ২৯ আগস্ট দুপুরে অসুস্থ অবস্থায় নববধূকে প্রথমে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এরপর অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে শনিবার ৩০ আগস্ট বিকেলে ভুক্তভোগী নববধূর ভাই বাদী হয়ে তার বোনের স্বামীকে প্রধান আসামি এবং অজ্ঞাত পাঁচ থেকে সাতজনকে আসামি করে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। পরে রাতেই নববধূর স্বামীসহ সাতজনকে আটক করে পুলিশ। তবে প্রাথমিক তদন্তে বাকি ছয়জনের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাসুদার রহমান ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার ফাহাদ আল আসাদ বলেন, নববধূকে রক্তক্ষরণ হওয়া অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নও পাওয়া গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর রক্তক্ষরণ বন্ধ হলে রাতেই ভুক্তভোগীকে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয় জানান তারা।
এ ব্যাপারে সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাদশা আলম বলেন, এমন অভিযোগ এনে ভুক্তভোগীর ভাই মামলা করেছেন। এঘটনায় সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় আটক ৬জনকে শর্তসাপেক্ষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং নববধূর স্বামী আসিফকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জড়িত আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন