মুন্সীগঞ্জে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি এবং অভিযুক্ত ঘুষ গ্রহণকারী কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন সংবাদকর্মীরা।
রবিবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে প্রধান সড়কে এক মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়। মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের আয়োজনে এ কর্মসূচিতে মুন্সীগঞ্জ জেলার সব সাংবাদিক সংগঠনের সদস্য ও সচেতন নাগরিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় সাত কর্ম দিবসের মধ্যে অভিযুক্ত কর্মচারীর বরখাস্তের দাবি জানানো হয়। অন্যথায়, মুন্সীগঞ্জের প্রশাসন ও সিভিল সার্জন কার্যালয়সহ সকল দপ্তরের সংবাদ উপস্থাপন বন্ধ করে দেওয়ার আলটিমেটাম দেওয়া হয়।
জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে স্টেনোগ্রাফার মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের ভিডিওসহ সংবাদ প্রকাশ করায় এনটিভির মুন্সীগঞ্জের স্টাফ রিপোর্টার মইনুদ্দিন আহম্মেদ সুমন এবং দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিনিধি পত্রিকার মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি আবু সাঈদ দেওয়ান সৌরভ। এ ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিজানুর রহমান মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আতিকুর রহমান টিপু অভিযোগ করেন, মিজানুর রহমান ৩৮ বছর মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়কে ঘুষের আখড়ায় পরিণত করেছেন। ঘুষ নেওয়ার ভিডিও থাকা সত্ত্বেও, প্রায় এক মাস পার হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সাত দিনের মধ্যে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে মুন্সীগঞ্জের সব দফতরের সংবাদ প্রকাশ করা বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে।
সাধারণ সম্পাদক গোলজার হোসেন বলেন, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হয়ে মিজানুর কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। অতি দ্রুত তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে, মুন্সীগঞ্জের সব সংবাদকর্মীরা প্রশাসনের বিপক্ষে কলম বিরতিতে যাবে।
এ সময় মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহসভাপতি মাহাবুব আলম লিটন, জসিম উদ্দিন দেওয়ান, সাধারণ সম্পাদক গোলজার হোসেন, সাবেক সভাপতি কাজী সাব্বির আহমেদ দীপু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুজন হায়দার জনি, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিবুল হাসান জুয়েল।
এছাড়া স্টার নিউজের শিহাব, প্রথম আলো পত্রিকার ফয়সাল আহমেদ, দেশ টিভির সুমিত সুমন, সাংবাদিক মো. কামাল হোসেনসহ জেলার সব প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সংগঠনের সদস্য ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
বিডি-প্রতিদিন/এমই