শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৪৮

বঙ্গবন্ধু বিপিএল ফাইনাল

রাজশাহী রয়্যালস চ্যাম্পিয়ন

আসিফ ইকবাল

রাজশাহী রয়্যালস চ্যাম্পিয়ন
বঙ্গবন্ধু বিপিএলে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি হাতে রাজশাহী রয়্যালসের অধিনায়ক আন্দ্রে রাসেল -রোহেত রাজীব

শেষ বল করার আগে হাত উঁচিয়ে মিরপুর স্টেডিয়ামের ২৭ হাজার ক্রিকেটপ্রেমীকে করতালিতে মুখরিত করার অনুরোধ জানান আন্দ্রে রাসেল। যদিও ক্যারিবীয় অলরাউন্ডারের বলটি সীমানা ছাড়া হয়। কিন্তু রাজশাহী রয়্যালসের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে বাধা হয়ে উঠতে পারেনি ওই বাউন্ডারি। বল সীমানা পার হতেই ডাগ আউট থেকে প্রজাপতির চঞ্চলতায় মাঠে ঢুকে পড়েন রাজশাহীর ক্রিকেটার ও কর্মকর্তারা। অধিনায়ক রাসেলকে ঘিরে শিরোপা উৎসব ও উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে রাজশাহী রয়্যালসের সবাই। অলরাউন্ডিং ক্রিকেট খেলে পদ্মা পাড়ের দলটি চ্যাম্পিয়ন হয় বিপিএলের বিশেষ আসর ‘বঙ্গবন্ধু’ বিপিএলে।

বিপিএলে এটাই প্রথম শিরোপা রাজশাহীর। অবশ্য ২০১৬-১৭ সালে রাজশাহী কিংস ফাইনাল খেলেছিল। আগের আসরগুলোর পথ ধরে এবারও ব্যর্থ মুশফিকুর রহিম। পারেননি শিরোপা উৎসবে মেতে উঠতে। গতকাল পৌষের রাতে রাসেলের রাজশাহীর কাছে পাত্তাই পায়নি মুশফিকের খুলনা। হেরেছে ২১ রানে।     

খেলেননি ‘ইউনিভার্সাল বস’ ক্রিস গেইল। ছিলেন না ‘ক্যারিশম্যাটিক’ মাশরাফি বিন মর্তুজা। সুযোগ ছিল না তামিম ইকবালের খেলার। নিষিদ্ধ বলে সাকিব আল হাসানও নেই। এসব তারকা ক্রিকেটারের খুলনা ও রাজশাহীর ফাইনালে খেলার সুযোগ ছিল না। তার পরও মুশফিক, রাসেল, মোহাম্মদ আমির, রবার্ট ফ্রাইলিঙ্ক, লিটন দাস, আফিফ হোসেন, মোহাম্মদ নাওয়াজদের ব্যাট ও বলের লড়াই দেখতে মিরপুর স্টেডিয়াম পরিণত হয়েছিল জনারণ্যে। উপচে পড়েছিল দর্শক। পৌষের সন্ধ্যায় ২৭ হাজারের ওপর দর্শকের মন ভাঙেনি। ক্রিকেটপ্রেমীরা তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করেছেন দুই দলের টানটান ফাইনাল। ম্যাচের প্রথমভাগে দর্শকদের মন ভরিয়েছেন ইরফান শুক্কুর। বাঁ-হাতি তরুণের ঝড়ো হাফসেঞ্চুরিতে রাজশাহীর সংগ্রহ ছিল ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৭০ রান। রাজশাহীকে লড়াকু স্কোর গড়তে ইরফানের সঙ্গে সহায়তা করেন মোহাম্মদ নাওয়াজ ও অধিনায়ক রাসেলও। ইরফান ৫২ রানের ইনিংস খেলেন মাত্র ৩৫ বলে ৬ চার ও ২ ছয়ে। শেষ ৫ ওভারে রাজশাহীর স্কোরকার্ডে ৭০ রান যোগ করেন নাওয়াজ ও রাসেল। নাওয়াজ ৪১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন মাত্র ২০ বলে ৬ চার ও ২ ছক্কায়। পিছিয়ে ছিলেন না রাসেলও। ১৬ বলে ২৭ রান করেন ৩ ছক্কায়।

টার্গেট ১২০ বলে ১৭১ রান। খুলনার ভরসা দুই ইনফর্ম ব্যাটসম্যান মুশফিক ও রাইলি রুশো। কিন্তু মোহাম্মদ ইরফান, রাসেল ও কামরুল ইসলাম রাব্বিদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে লড়াই করতে পারেননি। রুশো ২৬ বলে ৩৭ রান এবং মুশফিক ২১ রান করেন ২৫ বলে। দুই তারকা ব্যর্থ হলেও অসাধারণ ব্যাটিং করেন শামসুর রহমান শুভ। ৫২ রানের ইনিংসটি খেলেন ৪৩ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায়। ব্যাট হাতে ২৭ রান ও ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন রাজশাহী রয়্যালসের অধিনায়ক আন্দ্রে রাসেল। আসরে সর্বোচ্চ রান রুশোর ৪৯৫ এবং ২০টি করে উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, মোহাম্মদ আমির ও ফ্রাইলিঙ্ক।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর