শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:১৬

পাপিয়ার রক্ষক গডফাদারদের সন্ধান চলছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

পাপিয়ার রক্ষক গডফাদারদের সন্ধান চলছে

নরসিংদী থেকে উঠে আসা সদ্য বহিষ্কৃত যুবলীগ নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া কীভাবে এত অল্প সময়ে অপরাধ সাম্রাজ্য গড়ে তুললেন। কারাই বা তার নেপথ্য মদদদাতা-গডফাদার। কাদের ভিকটিম বানিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা? এ বিষয়ে আলোচনা এখন সর্বত্র। এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন গোয়েন্দারাও। তবে র‌্যাবের হাতে পাকড়াও হওয়ার পর একের পর এক বেরিয়ে আসে পাপিয়ার অন্ধকার জগতের নানা তথ্য। খোঁজা হচ্ছে তার গডফাদারদের। তবে তার কাছ থেকে উদ্ধারকৃত ভিডিও ক্লিপস নিয়ে রীতিমতো বিব্রত খোদ তদন্ত-সংশ্লিষ্টরাও। এরই মধ্যে তিন মামলায় ১৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে তাকে।

বিমানবন্দর থানার দায়েরকৃত মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) নাবিদ কামাল শৈবাল জানান, পাপিয়া এবং তার সঙ্গে গ্রেফতার হওয়াদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিভিন্নভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা অত্যন্ত সতর্ক।

মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার আরেক আন্তর্জাতিক মাফিয়া সেলিম প্রধানের সূত্র ধরেই পাপিয়ার অপরাধ জগতের সন্ধান পায় র‌্যাব। সেলিমের ডেরায়ও নিয়মিত যাতায়াত ছিল পাপিয়া ও তার স্বামী মতি সুমনের। সেলিমকে অনুসরণ করেই নিজেদের টার্গেট বাস্তবায়ন করে তারা। তার পরামর্শেই মতি সুমন থাইল্যান্ডে বারের ব্যবসা শুরু করে। তবে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর কৌশল পরিবর্তন করে পাপিয়া ও তার স্বামী। নিরাপদ হিসেবে বেঁছে নেয় পাঁচতারকা হোটেলকে।

সূত্র আরও জানায়, পাপিয়ার কাছ থেকে উদ্ধারকৃত নগ্ন ভিডিওগুলো দেখে বিব্রত হয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের অনেকেই নামিদামি-প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং শিল্পপতি। পাপিয়ার ফাঁদে পা দিয়ে তারা নিজেরাই তার জালে বন্দী হয়েছেন। পরবর্তীতে পাপিয়া তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা। পাপিয়ার অনুরোধ না রেখে কোনো উপায় ছিল না তাদের। পাপিয়া ও তার স্বামীর প্রভাব দেশ ছাড়িয়ে থাইল্যান্ড, ভারত ও মালয়েশিয়ায় ছিল। থাইল্যান্ডের বারে ঢাকার অতিথিদের জন্য বিশেষভাবে মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা করা হতো। সেখানে দেশের অনেক পরিচিত মুখদের প্রায়ই দেখা মিলত। তাদের মনোরঞ্জনের জন্য কম বয়সী মেয়েদের উপস্থিত রাখা হতো। তাদের ডেরায় একবার কেউ প্রবেশ করলেই তাদের বিভিন্ন কৌশলে অনৈতিক কাজে ঠেলে দিতেন পাপিয়া। বিভিন্ন ডিভাইসে এসব দৃশ্য গোপনে রেকর্ড করা হতো।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জাল টাকা বহন ও অবৈধ টাকা পাচারের অভিযোগে শামিমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউসহ চারজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। পরদিন সকালে রাজধানীর ইন্দিরা রোডে পাপিয়ার বাসায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ২০ রাউন্ড গুলি, পাঁচ বোতল বিদেশি মদ, ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা, পাঁচটি পাসপোর্ট, তিনটি চেক, বেশকিছু বিদেশি মুদ্রা ও বিভিন্ন ব্যাংকের ১০টি এটিএম কার্ড উদ্ধার করা হয়।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর