শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৮ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ মে, ২০২১ ২৩:৪৩

কালা বাবুও গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

কালা বাবুও গ্রেফতার
সাহিনুদ্দিন হত্যা
Google News

রাজধানীর পল্লবীতে প্রকাশ্যে সাহিনুদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে আরও একজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তার নাম বাবু ওরফে কালা বাবু ওরফে কালু ওরফে শেখ রাসেল হোসেন। গত বুধবার রাতে পল্লবীর সিরামিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত ১৮ নম্বর আসামি বাবুকে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্তি ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক বলেন, গত ১৬ মে পল্লবীতে প্রকাশ্যে সাহিনুদ্দিনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। চাঞ্চল্যকর ওই মামলাটি পুলিশি তদন্তের পাশাপাশি হত্যার রহস্য উদঘাটন ও আসামিদের গ্রেফতারে ছায়া তদন্ত শুরু করে র‌্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় বাবুকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছে বাবু। তাকে পল্লবী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে, গতকাল বাবুকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঈনুল ইসলামের আদালত রিমান্ডের এ আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক সৈয়দ ইফতেখার হোসেন আসামিকে আদালতে হাজির করেন। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

প্রসঙ্গত, সাহিনুদ্দিনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার নেপথ্যে ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান, তরিকত ফেডারেশনের সাবেক মহাসচিব এম এ আউয়াল জড়িত আছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সাহিনুদ্দিনকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন নিহতের মা আকলিমা বেগম। তিনি বাদী হয়ে পল্লবী থানায় এম এ আউয়ালসহ ২০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন।

মামলার এজাহারে আকলিমা বেগম উল্লেখ করেছেন, গত ১৬ মে বিকাল ৪টায় সুমন ও টিটু নামে দুই যুবক সাহিনুদ্দিনকে জমির বিরোধ মেটানো হবে উল্লেখ করে ফোন দিয়ে ডেকে নেন। সাহিনুদ্দিন মোটরসাইকেলে পল্লবীর ডি-ব্লকের ৩১ নম্বর সড়কের ৪০ নম্বর বাসার সামনে পৌঁছালে সুমন ও টিটুসহ ১৪/১৫ জন তাকে টেনেহিঁচড়ে ওই বাড়ির গ্যারেজে নিয়ে যায়। এ সময় সাহিনুদ্দিনের ছয় বছরের ছেলে মাশরাফি গেটের বাইরে ছিল। গ্যারেজে ঢুকিয়ে সন্ত্রাসীরা তাকে চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, রামদা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এরপর তাকে ওই বাড়ি থেকে বের করে ৩৬ নম্বর বাড়ির সামনে নিয়ে ফের কুপিয়ে ফেলে রেখে চলে যায়। ছেলের সামনেই নৃশংসভাবে খুন হন সাহিনুদ্দিন।

আকলিমা বেগমের অভিযোগ, পল্লবীর সেকশন-১২ বুড়িরটেকে আলীনগর আবাসিক এলাকার হ্যাভেলি প্রোপার্টিজ ডেভেলপার লিমিটেডের এমডি এম এ আউয়ালের সঙ্গে জমি- সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভাড়া করা স্থানীয় সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যা করেছে। আনুমানিক ৫ কোটি টাকা মূল্যের ১০ একর জমি জবরদখলে বাধা দেওয়ায় খুন হতে হয় সাহিনুদ্দিনকে।

ডিবির মিরপুর বিভাগের এডিসি মো. আহসান খান জানান, সাহিনুদ্দিন খুনের ঘটনায় মো. মানিক ও মো. মনির বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। কালু বাবু, শরীফ, টিটু ও ইকবাল রিমান্ডে রয়েছে। এ ছাড়া এই মামলায় গ্রেফতার হয়ে আদালতের মাধ্যমে এম এ আউয়ালসহ সাতজন জেলহাজতে রয়েছেন।