শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় ইরানে হামলা চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’ আছে। জবাবে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যে কোনো আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত।
এ ছাড়া আগ্রাসন হলে পারমাণবিক বোমা তৈরির মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সাম্প্রতিক প্রস্তাবে তেহরানের পাঠানো জবাবকে ‘আবর্জনা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে। তেহরান যুদ্ধ বন্ধের জন্য যে শর্তগুলো দিয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অগ্রহণযোগ্য। ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান আমাদের যে ‘আবর্জনা’ পাঠিয়েছে, তা পড়ার পর আমি বলব, এটি (যুদ্ধবিরতি) এখন সবচেয়ে নড়বড়ে অবস্থায় আছে। আমি সেটা পড়া শেষও করিনি। ট্রাম্প বারবার ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বাতিলের হুমকি দিয়ে আসছেন। যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাব দিয়েছিল যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো বিতর্কিত ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনার আগে লড়াই বন্ধ করতে হবে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল শর্তহীন যুদ্ধবিরতির পর আলোচনা; আর ইরান চেয়েছিল, আগে তাদের শর্ত পূরণ, তার পর যুদ্ধ বন্ধ। ফলে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা নিয়ে ইরানের আচরণে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রমে হতাশ হয়ে পড়ছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় বর্তমানে ট্রাম্প বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকা এবং ইরানি নেতৃত্বের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিভক্তি ট্রাম্পের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিচ্ছে। ট্রাম্পের ধারণা, এ বিভক্তির কারণেই ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বড় কোনো সমঝোতায় আসতে পারছে না। ফলে পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পক্ষে মত দিয়েছেন পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের একাংশ। মার্কিন হুমকির বিপরীতে আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যে কোনো আগ্রাসনের মুখে দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত। ভুল কৌশল ও ভুল সিদ্ধান্ত সব সময় ভুল ফলাফলই নিয়ে আসে, সারা বিশ্ব তা ইতোমধ্যে বুঝে গেছে। গালিবাফ সতর্ক করে আরও বলেন, ইরান সব ধরনের বিকল্পের জন্য প্রস্তুত এবং তাদের বিরোধীরা পরিস্থিতির আকস্মিকতায় বিস্মিত হবে। অন্যদিকে, আবারও হামলার শিকার হলে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি আরও জোরদার করতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, আবারও হামলা হলে ইরানের অন্যতম বিকল্প হতে পারে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত (এটি পারমাণবিক বোমা তৈরির উপযোগী মাত্রা) ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ। আমরা বিষয়টি পার্লামেন্টে পর্যালোচনা করব।