শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৫৬

জমকালো আয়োজনে পর্দা নামল সৈকত সাংস্কৃতিক উৎসবের

কক্সবাজার থেকে মোস্তফা মতিহার

জমকালো আয়োজনে পর্দা নামল সৈকত সাংস্কৃতিক উৎসবের

জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে গতকাল শেষ হয়েছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘সৈকত সংস্কৃতি উৎসব ২০২০’-এর। সুরের দ্যোতনায় দুই দিনই উপভোগ্য হয়ে উঠেছিল পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের লাবণী পয়েন্ট।

গতকাল বিকালে সমুদ্র¯œান সেরে সন্ধ্যায় উন্মুক্ত মঞ্চের সামনে সংস্কৃতির রস আস্বাদনে উপস্থিত হয়ে প্রাণের উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছিলেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত শিল্পানুরাগিরা। সেই সঙ্গে ছিল স্থানীয়দের ব্যাপক উপস্থিতি। সুরের মূর্চ্ছনার সঙ্গে নাচের মুদ্রার ঝলকানি, পাশপাশি অ্যাক্রোবেটিকের চমকপ্রদ উপস্থাপন ছিল আয়োজনের অংশবিশেষ।

সমাপনী আসরের শুরুতেই অ্যাক্রোবেটিক পরিবেশন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা। পাইপ ব্যালেন্স, দিয়ারো ব্যালেন্স ও রোপ রাইডের অনন্য পরিবেশনার সঙ্গে শারীরিক কসরতে পুরো লাবণী পয়েন্টকে চমকপ্রদ করে তোলেন শিল্পীরা। এর পরে ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশনায় রোলার ব্যালেন্স ও মার্শাল আর্ট, হাই সাইকেল, রিং ড্যান্স, ব্ল্যাঙ্কেট ব্যালেন্স ও গ্রুপ সাইকেলের নান্দনিক উপস্থাপনায় সৈকতে আগতদের বিমোহিত করে তোলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির অ্যাক্রোবেটিক দল। এদিনের আয়োজনে সমবেত নৃত্য পরিবেশন করেন ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবানের শিল্পীরা। সেই সঙ্গে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিল্পীরা নাচ ও গানের মাধ্যমে তাদের নিজস্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতি তুলে ধরে আসরের শেষ দিনেও দ্যুতি ছড়ান।

কক্সবাজারের স্থানীয় শিল্পীরা সমবেতভাবে পরিবেশন করেন ‘হাইল্যার গান’। ‘দুঃখিনী বাংলা’ ও ‘বুকের ভেতর আকাশ’ গান দুটির কথায় দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন জাতীয় পর্যায়ের শিল্পীরা। চার জেলার শিল্পীদের সমবেত নৃত্য ও সমবেত গানের সঙ্গে এদিনের আসরে একক গান গেয়ে শোনান শিল্পকলা একাডেমির নিয়মিত শিল্পী সেতু, রূপসা, সুচিত্রা প্রমুখ। একক গান, সমবেত গান, সমবেত নৃত্য,  অ্যাক্রোবেটিক ও বাউল গানের রেশ কাটতে না কাটতেই মঞ্চে আসে দেশের প্রথম ব্যান্ডদল ‘স্পন্দন’। শেষ দিনের বিশেষ আকর্ষণ ব্যান্ডসংগীতের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বৃহৎ এ উৎসবের সমাপ্তি ঘটে। উল্লেখ্য, গত ২৪ জানুয়ারি কক্সবাজারের লাবণী পয়েন্টে দুই দিনের এ সৈকত সাংস্কৃতিক উৎসবের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত এ উৎসবের সহযোগিতায় ছিল কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। ঢাকা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবানের শিল্পীদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিল্পীসহ এ উৎসবে অংশ নেন প্রায় পাঁচ শতাধিক শিল্পী।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর