শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ অক্টোবর, ২০২০ ২৩:২৪

রাজশাহী নগরীতে পুকুর ভরাট চলছেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

রাজশাহী নগরীতে একের পর এক পুকুর ভরাট চলছেই। ১৯টি পুকুর সংরক্ষণের দায়িত্ব থাকলেও সেদিকে নজর নেই রাসিকের। ভরাট চলছে নগরীর কাজিহাটা এলাকায় (নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজ হোস্টেল পাশে) সাড়ে ৬ বিঘা জমির একটি পুকুর। এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এ পুকুরের পানি ব্যবহার করে আসছেন। ওই এলাকার বাসিন্দা আবদুস সালাম বলেন, বহুদিনের ব্যক্তিমালিকানাধীন পুকুরটি ভরাট হলে এ এলাকার মানুষ অনেক অসুবিধায় পড়বে। কারণ গোসল থেকে শুরু করে তারা এ পুকুরের পানি পারিবারিক বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে থাকে। রেবা খাতুন বলেন, এ পুকুরটি ভরাট হয়ে গেলে মানুষ অসুবিধার মধ্যে পড়বে। আশপাশের মানুষ যারা পুকুরের পানি ব্যবহার করে, গোসল করে, থালা-বাসন ধোয়া থেকে শুরু করে অন্যান্য কাজে ব্যবহার করে, পুকুরটি ভরাট হয়ে গেলে সেসব সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত হবে। কিন্তু রাতের আঁধারে পুকুরটিতে এখন ভরাটের কাজ চলছে অতি গোপনে। রাতের অন্ধকারে লোকচক্ষুর আড়ালে মাটি ফেলে ভরাট করা হচ্ছে। আরডিএর সূত্র অনুযায়ী রাসিকের সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় আছে নগরীর ১৯টি পুকুর। তার মধ্যে এই পুকুরটিও আছে। তারপরও ভরাট হচ্ছে কাজিহাটার এ পুকুরটি। আরডিএ সূত্র মতে, পুকুরটি সংরক্ষণ করার কথা রাসিকের। অথচ এ পুকুর সম্পর্কে রাসিকের প্ল্যানার গোলাম মুর্শেদ বলেন, নগরীর পুকুর দেখার দায়িত্ব রাসিকের নয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৫৫ বছরে নগরীর প্রায় চার হাজার পুকুর ভরাট হয়েছে। এত পুকুর ভরাট হলেও আরডিএ মামলা দায়ের করেছে মাত্র দুটি। আরডিএ এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের দেওয়া তথ্য মতে, ১৯৬১ সালে রাজশাহী নগরীতে ছোট-বড় পুকুর, দীঘি ও জলাশয় ছিল ৪ হাজার ২৮৩টি। আর এখন তা কমতে কমতে এ সংখ্যা মাত্র ২১৪টিতে দাঁড়িয়েছে।

হেরিটেজ রাজশাহীর সভাপতি মাহবুব সিদ্দিকী জানান, এখন এক বিঘা বা তার বেশি আয়তনের পুকুর টিকে আছে ১৬৫টি। এগুলোও নানা কৌশলে ভরাটের প্রক্রিয়া চলছে। তবু নিশ্চুপ ভূমিকায় আছে আরডিএ এবং পরিবেশ অধিদফতর।

আরডিএ কর্তৃপক্ষ নগরীর ২০টি পুকুর সংরক্ষণের ঘোষণা দিলেও পুকুরগুলো সংরক্ষণে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রাজশাহী পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক নূর আলম জানান, পুকুরগুলো রক্ষায় আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই। কারণ, কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনা নিয়েই করতে হয়। পুকুর ভরাট হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, জনবল সংকটের কারণে পুকুর ভরাটে অনেক সময় তাৎক্ষণিক অভিযান চালানো যায় না। তবে খবর পেলেই পুকুর ভরাটকারীকে নোটিস পাঠিয়ে ভরাট বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।


আপনার মন্তব্য