শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২২:৫৫

বিদেশিদের সঙ্গে ছুটছে দেশিরাও

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিদেশিদের সঙ্গে ছুটছে দেশিরাও

ফুটবলে স্থানীয় খেলোয়াড়রা সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসাটা যেন স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। ২০০৭ সালে পেশাদার লিগ মাঠে গড়ানোর পর একবারই সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন স্থানীয় ফুটবলার জাহিদ হোসেন এমিলি। বাকিটা পুরোপুরি বিদেশি ফুটবলারদের দখলে। শুধু তাই নয়, বড় দলের শিরোপা জয়ের পেছনেও বিদেশিরাই মুখ্য ভূমিকা রাখতেন। ১৯৭৪ সাল থেকেই ঢাকা বা বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে বিদেশিদের আগমন ঘটে। সত্তর ও আশি দশকে বেশ ক’জন মানসম্পন্ন বিদেশি ফুটবলারের দেখা মিলেছিল। ১৯৮৭ সালে ঢাকা আবাহনীতে খেলে গেছেন ইরাকের হয়ে বিশ্বকাপ খেলা করিম মোহাম্মদ ও সামির সাকির। ঐতিহ্যবাহী ঢাকা মোহামেডানে খেলেছেন ইরানের নালজেগার ও বিজন তাহেরি। নাইজেরিয়ার এমেকা, চিমা ওকেরি, রাশিয়ার ঝুকভ, পলিনকভ, উজবেকিস্তানের রহিমভ। এমনকি শ্রীলঙ্কার পাকির আলি, প্রেমলাল, নেপালের গনেশ থাপাও মাঠ কাঁপিয়ে গেছেন। পেশাদার লিগে মাঠে গড়ানোর পর বিদেশিদের মান ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। প্রতিটি দলে একাধিক বিদেশি খেললেও দর্শকদের নজর কাড়তে পারেনি। সনি নর্দে ও ওয়েড সনের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। মান নেই তবু বিদেশির ওপর নির্ভর করে দলগুলো সাফল্য পেয়েছে। এতেই স্থানীয়দের পারফরম্যান্সের দুর্দশা স্পষ্ট হয়ে উঠে। তবে পারিশ্রমিক প্রতি মৌসুমে স্থানীয়দের বেড়েই চলেছে। অতীতে যাই ঘটুক না কেন এবার পেশাদার লিগে দৃশ্য পাল্টে গেছে। এবারই প্রথম দলগুলো যাচাই-বাছাই করে বিদেশিদের মাঠে নামিয়েছে। প্রতিটি দলে চারজন করে বিদেশি সেরা একাদশে সুযোগ পাচ্ছে। সেই হিসেবে ১৩ দলে ৫২ জন বিদেশি খেলছেন। অধিকাংশ দলই উঁচুমানের ফরেন কালেকশন করেছে। বিশেষ করে নবাগত বসুন্ধরা কিংসের কথা না বললেই নয়। তারা অভিষেকেই বিশ্বকাপে খেলা খেলোয়াড়কে দলে টেনেছে। কোস্টারিকার ড্যানিয়েল কলিনড্রেস, সেই সঙ্গে ব্রাজিলের মার্কোস, উজবেকিস্তানের বখতিয়ার, স্পেনের জর্জ গোটর খেলছেন। এরা শুরু থেকেই দর্শকদের মন জয় করেছেন। ঢাকা আবাহনী, শেখ রাসেল, শেখ জামাল, সাইফ স্পোর্টিং এমনকি মুক্তিযোদ্ধাও খেলছে মানসম্পন্ন বিদেশি ফুটবলার। চারজন করে বিদেশি খেলায় সেরা একাদশে প্রতিটি দলে ৭ জন করে স্থানীয়দের খেলার সুযোগ থাকে। এতে করে স্থানীয়দের পাত্তা পাবারই কথা। জয় এনে দিতে বিদেশিরাই যথেষ্ট। না, হতাশা নয়, বিদেশিদের পাশাপাশি স্থানীয়রা জ্বলে উঠছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্থানীয়রাই বড় ভূমিকা রাখছে। পেশাদার লিগে অষ্টম রাউন্ড শেষের পর আগামীকাল থেকে নবম রাউন্ড মাঠে গড়াবে। বসুন্ধরা কিংস শীর্ষে, ঢাকা আবাহনী দ্বিতীয় ও শেখ রাসেল তৃতীয় স্থানে আছে। ফেবারিট এই তিন দলের অগ্রগতির পেছনে স্থানীয়দের অবদান কম নয়। এবার শুধু বিদেশিরাই গোল পাচ্ছেন না, স্থানীয়রাও জালে বল পাঠাতে ভুল করছে না। যা দেখে জাতীয় দলের কোচ জেমি ডে সন্তুষ্ট। এবার যে ভালো মানের বিদেশি এসেছে যার বড় প্রমাণ মুক্তিযোদ্ধা। দলটি শিরোপা লড়াইয়ে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবু তাদের আইভরিকোস্টের ফুটবলার ফামুসার নৈপুণ্য নজর কাড়ছে। শেখ জামালের মতো শক্তিশালী দলের পক্ষে তিনি হ্যাটট্রিক করেন। ৭ গোল দিয়ে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনিই। রহমতগঞ্জের জুনাপিও করেছেন ৫ গোল। পিছিয়ে নেই স্থানীয় ফুটবলাররা। আবাহনীর নাবিব নেওয়াজ জীবন। জাতীয় দলের হয়ে সহজ সহজ সুযোগ নষ্ট করলেও এবার চ্যাম্পিয়ন দলে দুর্দান্ত খেলছেন। ভাবা যায় যেখানে সানডে, বেলফোটের মতো ভয়ঙ্কর খেলোয়াড় আছেন সেখানে কিনা জীবন হ্যাটট্রিকসহ আট ম্যাচে ৫ গোল করেছে। যদিও আবাহনী দুই ম্যাচ হেরেছে তবু জীবনের পারফরম্যান্স প্রশংসিত হচ্ছে। বসুন্ধরা কিংসের কলিনড্রেস, মার্কোস ও বখতিয়ারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মতিন মিয়া জ্বলে উঠছেন। এখন পর্যন্ত ৭ ম্যাচে তার গোল সংখ্যা ৪। জীবন ও মতিন মিয়ার পারফরম্যান্সে অন্ধকারে থাকা ফুটবল আলোর মুখ দেখছে। জাতীয় দলে ফাঁকা নেট পেয়েও গোল করতে পারছে না। লিগে ভালো মানের বিদেশির সঙ্গে সমান তালে পাল্লা দিয়ে লড়ছেন স্থানীয়রা। শুধু কি তাই এখন পর্যন্ত তিন হ্যাটট্রিকের মধ্যে দুটিই স্থানীয়দের। যে জাহিদের খেলা পড়তির দিকে সেও কিনা আরামবাগে জ্বলে উঠছেন। হ্যাটট্রিক করেছেন শক্তিশালী মোহামেডানের বিপক্ষে। বিদেশিরা নয় স্থানীয়রাও ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করছে।

 


আপনার মন্তব্য