শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ মার্চ, ২০১৯ ২১:৫২

রাতেই ফিরছেন ক্রিকেটাররা

ক্রীড়া প্রতিবেদক

রাতেই ফিরছেন ক্রিকেটাররা
ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী হামলা থেকে জীবন নিয়ে পালিয়ে আসছেন তামিম, তাইজুল, মিরাজরা -ইন্টারনেট

৫ মিনিট এদিক-ওদিক হলেই স্বজনহারা হতো বাংলাদেশ। একজন ঘৃণ্য সন্ত্রাসীর গুলির নির্মম শিকার হতেন মুশফিক, তামিম, মাহমুদুল্লাহরা। দেশের মানুষ হারিয়ে ফেলতেন জাতীয় সম্পদ। ইতিহাসের ব্রাকেটবন্দি হয়ে যেতেন ক্রিকেটাররা। ভাগ্য সুপ্রসন্ন থাকায় বেঁচে গেছেন মাহামুদুল্লাহরা। বেঁন্ডেচ গেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। নিষ্ঠুরতার হাত থেকে বেঁন্ডেচ গেছে বিশ্ব ক্রিকেট। কিন্তু যে মানসিক যন্ত্রণা ও বিভিষিকাময় সময়ের মধ্য দিয়ে হেঁটেছেন টাইগাররা, সেখান থেকে কি আদৌ বের হতে পারবেন? মুশফিক, তামিম, মাহমুদুল্লাহরা ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসদিজের দুঃস্বপ্ন যেন ভুলে যান, প্রার্থনা গোটা দেশের। সন্ত্রাসীর গুলিবর্ষণে ৪৯ জনের মৃত্যুর পর শোকস্তব্দ গোটা বিশ্ব। আলোচনায় উঠে এসেছে টাইগার ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার বিষয়। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তায় কোনো নিরাপত্তাকর্মী ছিল না। নৃশংস ঘটনায় হতভম্ব বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানিয়েছেন, ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা দিতে কোনো পুলিশ ছিলেন না। সন্ত্রাসী বর্বরোচিত হামলায় ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড আলোচনা করে বাতিল করেছে ক্রাইস্টচার্চ টেস্ট। ক্রিকেটাররা ঢাকায় ফিরবেন আজ রাত ১০টা ৪০ মিনিটে।   

ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে আজ ভোরে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট খেলতে নামার কথা ছিল বাংলাদেশের। টেস্টের প্রস্তুতি হিসেবে গতকাল সকালে অনুশীলন করেন টাইগাররা। এরপর মাহমুদুল্লাহরা জুমার নামাজ পড়তে আল নুর মসজিদমুখী হন টিম বাসে করে। টিম ম্যানেজার খালেদ মাসুদ পাইলট বলেন, ‘আমরা খুবই সৌভাগ্যবান, বাসে ১৭ জনের মতো ছিলাম। দুজন ক্রিকেটার শুধু হোটেলে ছিল। বাকি সবাই নামাজ পড়তে যাচ্ছিলাম। মসজিদ থেকে সম্ভবত ৫০ গজের মতো দূরে ছিলাম। ভাগ্য ভালো বলেই হয়তো আমরা বেঁচে গেছি। ৩-৪ মিনিট আগে চলে এলে মসজিদের ভিতরেই থাকতাম। ভয়ঙ্কর কিছু ঘটে যেতে পারত। শুকরিয়া আমরা সে সময় ওই জায়গায় ছিলাম না। ভিডিও দেখে আমাদের মনে হচ্ছিল যেন সিনেমা দেখছি। বাসের ভিতর বসে আমরা দেখছিলাম বেশ কিছু মানুষ রক্তাক্ত অবস্থায় বেরিয়ে আসছে। গুলি থেকে বাঁচতে আমরা ৮-১০ মিনিট বাসের ভিতর মাথা নিচু করে ছিলাম।’

সন্ত্রাসীর নারকীয় ঘটনায় হতভম্ব গোটা বিশ্ব। নির্বাক হয়ে গেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। সতীর্থরা ভালো আছেন শুনে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে আল নূর মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় দুজন বাংলাদেশিসহ বহু মানুষের নিহত হওয়ার খবর পাচ্ছি! এমন সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। ঘটনাটি শোনার পর থেকে আমাদের ক্রিকেটারদের নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় ছিলাম। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমাদের ক্রিকেটাররা বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই পেয়েছেন। তারা নিরাপদে আছেন। শুক্রবার জুমার নামাজ পড়তে আর একটু আগে মসজিদে গেলে শোকাবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত! আল্লাহ সহায় হয়েছেন। আশা করছি, আমাদের ক্রিকেটাররা দ্রুতই নিরাপদে দেশে ফিরে আসবেন।’ ক্রিকেটাররা ভালো আছেন বলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে টুইট করেছেন টেস্ট ও টি-২০ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান, ‘ক্রাইস্টচার্চের সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। শুধু এটাই বলতে পারি, মহান আল্লাহপাকের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তিনি আমার ভাই ও সতীর্থদের বাঁচিয়ে দিয়েছেন। আলহামদুল্লিøাহ।’ ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলিও টুইট করেছেন, ‘হতভম্ব করে দেওয়ার মতো শোকাবহ ঘটনা। ক্রাইস্টচার্চে এমন কাপুরুষোচিত হামলায় হতাহত লোকজনের জন্য আমার অনেক ভালোবাসা। বাংলাদেশ দলের জন্য আমার শুভকামনা, নিরাপদে থাকুন।’ বীভৎস ঘটনায় বাকরুদ্ধ গোটা পৃথিবী। নির্বাক বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। এই দুঃসহ ঘটনা যেন ভুলে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন ক্রিকেটাররা, প্রার্থনা সকলের।


আপনার মন্তব্য