Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০১

ফেডারেশন সমাচার ১

কাবাডি এখনো আড়ালেই

রাশেদুর রহমান

কাবাডি এখনো আড়ালেই

এক সময় ‘কাবাডি, কাবাডি, কাবাডি’ গুঞ্জন শোনা যেত গ্রাম-বাংলার স্থানে স্থানে। নব্বইয়ের দশকে বেড়ে ওঠা শিশুরাও কাবাডি খেলার জনপ্রিয়তা লক্ষ করেছে। কিন্তু নতুন শতকে ক্রিকেট আর ভিডিও গেমের জোয়ারে অন্যান্য অনেক খেলার মতোই হারিয়ে গেছে কাবাডির গৌরব। তারপরও জাতীয় খেলার মান রেখেছেন কিছু সংগ্রামী মানুষ। একের পর এক সফলতা এনে দিয়েছেন। এশিয়ান গেমস, বিশ্বকাপ আর সাফ গেমসে পদক জিতেছেন। কিন্তু তারপরও অনেকটা আড়ালে পড়ে আছে জাতীয় খেলা কাবাডি।

বাংলাদেশ কাবাডিতে প্রথম পদক (রৌপ্য) পায় ১৯৯০ এশিয়ান গেমসে। এরপরের আসরেও রৌপ্য জয় করেছিল। ছেলেদের মতো মেয়েরাও কাবাডিতে এশিয়ান গেমস থেকে পদক (ব্রোঞ্জ) এনেছে (২০১০ ও ২০১৪)। অনেক খেলাতে অংশগ্রহণই শেষ কথা। সেখানে কাবাডি দল এরই মধ্যে এশিয়ান গেমসে জিতেছে ৭টি পদক (ছেলেরা ৫টি, মেয়েরা ২টি)। বিশ্বকাপে জিতেছে দুটি পদক। এছাড়া এসএ গেমস আর এশিয়ান ইনডোর গেমসের পদক তো আছেই।

জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কাবাডি কোচ আবদুল জলিল আফসোস করে বলছিলেন, ‘আমরা বিশ্বকাপের মতো আসরে ব্রোঞ্জ জিতেও দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারিনি।’ এর ফলে কাবাডি ধীরে ধীরে আড়ালেই চলে গেছে। কেবলমাত্র বাহিনীর দল দিয়েই চলছে কাবাডি। জাতীয় দলের কোচ বলেন, ‘আমাদেরকে সার্ভিস থেকেই জাতীয় দল গঠন করতে হয়। সিভিল থেকে কোনো খেলোয়াড়ই পাই না। আর পাবইবা কেন? এখানে তো কোনো সুযোগ নেই। একটা ছেলে বা মেয়ে কেন কাবাডি খেলবে? তার পরিবারই বা কেন কাবাডি খেলতে দিবে?’ বড় বড় ক্লাবগুলোর দায়বদ্ধতার কথাও স্মরণ করিয়ে দিলেন আবদুল জলিল। তিনি বলেন, ‘টুর্নামেন্ট হলেই কেবল দল গঠন করি আমরা। টুর্নামেন্ট শেষ হলেই দলের সবাই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ছয় মাস রেখে যে অনুশীলন করব তার সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে বড় বড় ক্লাবগুলো এগিয়ে আসতে পারত। আবাহনী, মোহামেডান, শেখ জামাল আর বসুন্ধরা কিংসের মতো ক্লাবগুলো কাবাডিতে এগিয়ে এলে এই খেলায় বাংলাদেশ অনেক ভালো করতে পারে।’ এক সময় ভারত আর বাংলাদেশের মতো দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের কিছু দেশই কেবল কাবাডি খেলত। এখন সময় বদলেছে। আধুনিক কাবাডির শক্তিশালী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপানসহ ইউরোপ-আমেরিকার অনেক দল। সবার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে কাবাডির প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া সময়ের দাবি বলে মনে করেন জলিল।

বর্তমান কমিটি নতুন কিছু কাজ হাতে নিয়েছে বলে জানালেন কোচ আবদুল জলিল। ৬৪টি জেলায় শুরু হয়েছে কাবাডি। আবদুল জলিল আশাবাদী, এবার হয়ত কাবাডিতে ভালো কিছু হবে।

 

এক নজরে

পুরুষ কাবাডি দলের অর্জন

বিশ্বকাপ : তৃতীয় (২০০৪ ও ২০০৭)

এশিয়ান গেমস : রুপা (১৯৯০, ১৯৯৪ ও ২০০২)

তামা (১৯৯৮ ও ২০০৬)

এশিয়ান ইনডোর গেমস : তামা (২০০৭ ও ২০০৯)

সাউথ এশিয়ান গেমস : রুপা (১৯৮৫, ১৯৮৭ ও ১৯৯৫)

তামা (১৯৮৯, ১৯৯৩, ২০০৪, ২০০৬, ২০১০ ও ২০১৬)

মহিলা কাবাডি দলের অর্জন

এশিয়ান গেমস : তামা (২০১০ ও ২০১৪)

সাউথ এশিয়ান গেমস : রুপা (২০১০)


আপনার মন্তব্য