Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১২ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ জুন, ২০১৯ ২৩:০৪

হতাশা নিয়ে সমর্থকদের ঘরে ফেরা

হতাশা নিয়ে সমর্থকদের ঘরে ফেরা
বৃষ্টির হানায় লণ্ডভণ্ড হলে গেল বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ। অনেক আশা নিয়ে দর্শক মাঠে গেলেও পতাকা নাড়িয়েই ঘরে ফিরতে হয়েছে তাদের। গতকাল ব্রিস্টলে দিনব্যাপী বৃষ্টি এবং ঠান্ডা বাতাসের কারণে ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় একটা পয়েন্ট পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে এতে সন্তুষ্ট ছিলেন না লাল-সবুজ পতাকা হাতে মাঠে উপস্থিত সমর্থকরা। পুরো পয়েন্ট নিয়ে বাড়ি ফেরার আশায় গ্যালারিতে এসেছিলেন তারা -সংগৃহীত

অঝোরে বৃষ্টি ব্রিস্টলে। সেই সঙ্গে প্রচন্ড বাতাস। গুগলে সার্চে তাপমাত্রা দেখাচ্ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু অনুভূত হচ্ছিল ৫ ডিগ্রিরও কম। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করেও গতকাল সকালে ব্রিস্টল কাউন্টি গ্রাউন্ডে খেলা দেখতে আসেন হাজারো বাংলাদেশি সমর্থক।

কিন্তু ফিরে যেতে হয়েছে হতাশা নিয়ে। সারাদিন ঝিরিঝিরি বৃষ্টির কারণে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ম্যাচ পন্ড হয়ে যায়। দুই দলই একটি করে পয়েন্ট পেয়েছে। বেরসিক বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশের সেমিফাইনালের আশাও অনেকটা ম্লান হয়ে গেল। টানা দুই ম্যাচে হারার পর শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে এই ম্যাচটিকে পাখির চোখ করে রেখেছিলেন টাইগাররা। সে পর্যন্ত আশার গুড়ে বালি। গতকাল কোনো বলই মাঠে গড়ায়নি। ম্যাচ না হওয়ায় এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ টাইগারদের সামনে। বাংলাদেশের কোচ স্টিভ রোডস বলেন, ‘আমরা খুবই চেয়েছিলাম এই ম্যাচ থেকে দুই পয়েন্ট পাব। কিন্তু তা হলো না। আমরা খুবই হতাশ। এখন টার্গেট ম্যাচ। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে চাই। এটি লম্বা টুর্নামেন্ট, কখন কি ঘটে যায় বলা তো যায় না!’

গতকাল ব্রিস্টল কাউন্টি গ্রাউন্ডে সকাল সাড়ে ১০টায় মাঠের দুই আম্পায়ার রিচার্ড ইলিনয়র্থ ও রিচার্ড কেটলবোরাক মাঠ পরিদর্শনে নামেন। টস করা যায় কিনা! তখন কিছু সময়ের জন্য বৃষ্টি থামলেও একটু পর আবার শুরু হয়ে যায়। সারাক্ষণ ছিল ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। তারপর দুপুর দেড়টায় দ্বিতীয় দফায় মাঠ পরিদর্শন শেষে জানিয়ে দেওয়া হয় ম্যাচটি পরিত্যক্ত।

তবে খেলা না হলেও দর্শকরা গ্যালারিতে উৎসবের আমেজে ছিলেন। ১৬০ কিলোমিটার ড্রাইভ করে টাইগারদের খেলা দেখতে বার্মিংহাম থেকে এসেছিলেন সিলেটের রুমান। তার পরনে বাঘের পোশাক। হাতে গর্বের লাল-সবুজ পতাকা। বৃষ্টিতে গ্যালারিতে ভিজছিলেন, ঠান্ডা বাতাসে কাঁপছিলেনও। গ্যালারিতেই কথা হয় তার সঙ্গে। বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বাংলাদেশের খেলা মানেই তো আমাদের প্রবাসীদের জন্য ঈদের আনন্দ। আবহাওয়া রিপোর্ট দেখেছি, খেলা হওয়ার সম্ভাবনা কম। কিন্তু যদি খেলা হয়, তাহলে তো মিস করব। তাই সে আশায় এসেছি। মাঠে বসে বাংলাদেশকে সমর্থন দেব এর চেয়ে আনন্দের আর কি আছে?’

বাংলাদেশ দলের মাঠে আসার কথা ছিল সকাল আটটায়। কিন্তু বৃষ্টির কারণে তারা সকালে হোটেল থেকেই বের হননি। তবে ঠিকই মাঠে এসেছিলেন সাব্বির রহমান। ইনজুরির কারণে সাকিব আল হাসান অনিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় সুযোগ এসেছিল সাব্বিরের সামনে। তা ছাড়া কার্টেল ওভার হলে সাব্বিরের মতো হার্টহিটারই তো দরকার ছিল। সে কারণে নিজেকে প্রস্তুত রাখতে সকাল থেকেই ব্রিস্টলের নেটে অনুশীলন করেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ম্যাচ তো মাঠেই গড়াল না।

বৃষ্টি যেন বঞ্চিত করেছে ব্রিস্টলবাসীকেও। এই কাউন্টি গ্রাউন্ডে বিশ্বকাপের তিনটি ম্যাচ ছিল। অস্ট্রেলিয়া-আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচটি কেবল মাঠে গড়িয়েছে। তবে পুরো ১০০ ওভার খেলা দেখার সুযোগ হয়নি দর্শকদের। দুই ইনিংস মিলে খেলা হয়েছে ৭৮.১ বল। অসিরা ৮ উইকেটের সহজ জয় তুলে নিয়েছে। পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার ম্যাচটিও পরিত্যক্ত হয়েছে।

ব্রিস্টলে থাকা বাঙালি আবদুল আউয়াল বলেন, ‘কাজের খুব একটা সময় পাই না। তবে আমি খুবই ক্রিকেটপাগল। তাই এখানের তিনটি ম্যাচেরই টিকিট সংগ্রহ করেছিলাম। কিন্তু মাত্র একটি খেলা দেখতে পেয়েছি। তবে বাংলাদেশের ম্যাচটি না হওয়ায় খুবই কষ্ট পেলাম।’

অধিকাংশ সময়ই বৃষ্টি বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে এসেছে। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে যদিও অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুরন্ত জয়ে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল, তবে নেপথ্যে ছিল অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে পরিত্যক্ত ম্যাচ থেকে পাওয়া ১ পয়েন্ট। ২০১৭ সালে এই যুক্তরাজ্যের মাটিতেই আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বৃষ্টি আবারও আশীর্বাদ হয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে। প্রথমে ব্যাট করে ওভালে বাংলাদেশ মাত্র ১৮২ রানে অলআউট হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়া মাত্র ১ উইকেটে করেছিল ৮২ রান। যেন নিশ্চিত হেরে যাওয়া সেই ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় ১ পয়েন্ট পায় বাংলাদেশ। তারপর কার্ডিফে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক জয়ে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালের টিকিট পায় টাইগাররা।

এই বিশ্বকাপ শুরুর আগে বাংলাদেশ যে প্রথমবারের মতো ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা  জেতে সেই ম্যাচটিও ছিল বৃষ্টিবিঘিœত। ফাইনালে বৃষ্টির পর বাংলাদেশের সামনে টার্গেট ছিল রানের পাহাড়! কিন্তু সেই ম্যাচে জিতে যায় টাইগাররা।

বৃষ্টি বার বার বাংলাদেশ দলকে বন্ধুর মতোই  হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে এবার সেই বৃষ্টিই যেন শত্রু হয়ে গেল। বৃষ্টিকে নিয়ে, বৃষ্টিকে আহ্বান জানিয়ে কত কবি কত শত সব রোমান্টিক কবিতা লিখেছেন! গতকাল গ্যালারির দর্শকরা হয়তো সব বাদ দিয়ে শিশুদের সেই ইংলিশ লাইনটাই বার বার আওড়াচ্ছিলেন, ‘রেইন রেইন গো অ্যাওয়ে, কাম এগেইন অ্যানাদার ডে’! কিন্তু প্রকৃতি কী আর কারও আহ্বানে সাড়া দেয়!


আপনার মন্তব্য