Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ জুলাই, ২০১৯ ২২:৪৫

রূপকথার মতো জয়

রূপকথার মতো জয়
জাদেজার ব্যাটিংয়ে জয়ের স্বপ্ন দেখছিল ভারত। তাকে আউট করেন ট্রেন্ট বোল্ট। উল্লসিত নিশাম ছুটে এসে অভিনন্দন জানান বোল্টকে। -এএফপি

বোল্ট ৪২ রানে ২ উইকেট নিয়ে ভারতকে চাপে ফেলেছেন, আর ফার্গুসন নিশ্চিত করে দিয়েছেন কিউইদের জয়। সবার ছোট ছোট অবদানই নিউজিল্যান্ডকে এনে দিয়েছে নাটকীয় জয়। অন্যদিকে ভারতীয় দলে ঠিক উল্টো চিত্র। দলে তারকার ছড়াছড়ি। দলীয় সমন্বয়হীনতার কারণে হেরে যায় কোহলিরা।

খেলা শেষে গতকাল ওল্ড ট্র্যাফোর্ড ক্রিকেট গ্রাউন্ডে যেন বসেছিল নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেট পরিবারের মিলনমেলা! গ্যালারি দর্শকশূন্য হওয়ার পর পুনরায় মাঠে প্রবেশ করেন কিউই ক্রিকেটাররা। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ও সন্তানরাও।

উইলিয়ামসন-টেলররা বাচ্চাদের সঙ্গে মনের মতো দৌড়াদৌড়ি করেন, কেউ কেউ মেতে ওঠেন খোশ গল্পে। কেউবা রূপকথার এই জয়ের ভেন্যু ওল্ড ট্র্যাফোর্ডকে ফ্রেমে বন্দী করে রাখতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন ছবি তুলতে। সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ১৮ রানের নাটকীয় জয়ের পর বেশ সেলিব্রেশনের মুডে সময় কাটায় টিম নিউজিল্যান্ড।

মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এখন কতটা স্বস্তিতে ব্লাক ক্যাপসরা! ভারতের বিরুদ্ধে ৪৬.১ ওভারে মাত্র ২১১ রান করে কি রাতে ঘুমাতে পেরেছে নিউজিল্যান্ড দলের ক্রিকেটাররা? গতকাল দিনের শুরুটাও তো ভালো ছিল না! আগের দিনের ২১১ রানের সঙ্গে আর মাত্র ২৮ রান যোগ করতে পেরেছিল তারা। ভারতের মতো বিশ্বসেরা ব্যাটিং লাইনআপকে মাত্র ২৪০ রানের টার্গেট দিয়ে জয়ের আশা করা যায়! কিন্তু নিউজিল্যান্ড ঠিকই জয় তুলে নিয়েছে। ক্যারিশমেটিক বোলিং ও দুর্দান্ত ফিল্ডিং করে টানা দি¦তীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছেন ব্লাক ক্যাপসরা।

আচ্ছা, এই নিউজিল্যান্ড দলে বড় তারকা কে? কেন উইলিয়ামসন, রস টেলর, ট্রেন্ট বোল্ড নাকি ম্যাট হেনরি! নাহ্! এরা কেউ-ই বড় তারকা ছিলেন না। খুব বেশি হলে মাঝারি মানের তারকা বলা যায়! ক্রিকেট ১১ জনের খেলা। দলে আহামরি বড় তারকা না থাকলেও সম্মিলিত প্রয়াসে বড় অর্জন সম্ভব তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে নিউজিল্যান্ড। ম্যাচ শেষে দলীয় সমন্বয়েরই জয়গান গাইলেন উইলিয়ামসন, ‘আমি সবাইকে একটা কথাই বলেছি, ক্রিকেট দলীয় খেলা। এখানে সবাই মিলে চেষ্টা করলে সবই সম্ভব।’

ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হারার পর নেট রানরেটে এগিয়ে থেকে কোনো রকমে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছিল নিউজিল্যান্ড। তারপর দলীয় সমন্বয়ের প্রেরণাই উদ্দীপ্ত করেছেন নিউজিল্যান্ড দলকে।

সবাই সবার জায়গা থেকে নিজের সেরা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। যেমন ওপেনার গাপটিলের কথাই ধরুন! ব্যাটিংয়ে বরাবরের মতো এই ম্যাচেও ফ্লপ। কিন্তু সেই গাপটিলই গতকাল ফিল্ডিংয়ে এমন ক্যারিশমা দেখালেন, যা নিউজিল্যান্ডের

সেমিফাইনালে পৌঁছাতে রাখল বড় ভূমিকা। শেষ মুহূর্তে তার দুর্দান্ত থ্রোতেই তো রান আউটের ফাঁদে পড়েন মহেন্দ্র সিং। যা ছিল ম্যাচের টানিং পয়েন্ট।

জিমি নিশামের ক্যাচটির কথাও আলাদা করে বলতে হয়। পান্থের সঙ্গে সঙ্গে দিনেশ কার্তিক জুটি গড়ে যখন ভারতকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন তখনই ডান দিকে পাখির মতো উড়ে গিয়ে এক হাতে ক্যাচ নিয়ে কার্তিককে সাজঘরে পাঠিয়ে দেন। অথচ ব্যাটে-বলে ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি।

তবে উইলিয়ামসন ও রস টেলর তো আগেই বরাবরের মতো এ ম্যাচেও ব্যাটিংয়ে তাদের দৃঢ়তা দেখিয়েছেন। দুজনেই হাফ সেঞ্চুরি করেছেন আগের দিন। তবে কালকের দিনটি ছিল পেসার ম্যাট হেনরির। মাত্র ৩৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে তিনিই তো ম্যাচসেরা হয়েছেন। ভারতের দুই ওপেনার রোহিত শর্মা, লোকেশ রাহুল ও দিনেশ কার্তিকের উইকেট নিয়েছেন। তাকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন ট্রেন্ট বোল্ট ও লকি ফার্গুসন। বোল্ট ৪২ রানে ২ উইকেট নিয়ে ভারতকে চাপে ফেলেছেন, আর ফার্গুসন নিশ্চিত করে দিয়েছেন কিউইদের জয়। সবার ছোট ছোট অবদানই নিউজিল্যান্ডকে এনে দিয়েছে নাটকীয় জয়।

অন্যদিকে ভারতীয় দলে ঠিক উল্টো চিত্র। দলে তারকার ছড়াছড়ি। দলীয় সমন্বয়হীনতার কারণে গতকাল হেরে যায় কোহলিরা।

টার্গেট ছিল মাত্র ২৪০ রান। সহজ লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৫ রানে ৩ উইকেট হারায় ভারত। তাদের সেরা তিন ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা ও লোকেশ রাহুলের সম্মিলিত রান ৩!  তবে গতকাল দারুণ লড়াই করেছেন ভারতের দুই ব্যাটসম্যান মহেন্দ্র সিং ধোনি ও রবীন্দ্র জাদেজা। সপ্তম উইকেট জুটিতে দুই ব্যাটসম্যান মিলে গড়লেন ১১২ বলে ১১৬ রানের জুটি। যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড।

জাদেজা খেলেছেন ৫৯ বলে ৭৭ রানের অবিশ্বাস্য এক ইনিংস। আর ধোনি করেছেন কাটায় কাটায় ৫০ রান। এই দুজন যতক্ষণ উইকেটে ছিলেন ততক্ষণ ভারতের আশাও ছিল। তারা আউট হয়ে যাওয়ার পরই ভেঙে যায় ভারতের স্বপ্ন।  ম্যাচ শেষে কোহলি বলেন, ‘২৪০ রান মোটেও কঠিন ছিল না। কিন্তু আমরা আমাদের স্ট্যান্ডার্ট অনুযায়ী খেলতে পারিনি। আমরা দল হিসেবে খেলতে পারিনি।’

একক সংগীত শুনতে মধুর লাগে ঠিকই কিন্তু জাতীয় সংগীত গাইতে প্রয়োজন হয় কোরাস! নিউজিল্যান্ডে একক বড় কিংবা নামি কোনো তারকা না থাকলেও তাদের সম্মিলিত প্রয়াসই দলকে ফাইনালে পৌঁছে দিল। এবার ১৪ জুলাই লর্ডসে আরেকবার কোরাস গাইতে চান কিউইরা।


আপনার মন্তব্য