ঘোষকের কণ্ঠে নাম উচ্চারিত হতেই একে একে আসন ছেড়ে উঠে আসছেন ফাইটাররা। দুই প্রতিপক্ষ ফাইটারের ওজন মাপা শেষ হতেই মারমুখী হয়ে একে-অপরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। সত্যিকারের লড়াইয়ের আগে প্রতিদ্বন্দ্বীকে যেন পরখ করে নিচ্ছেন! বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির জুলকান ইনডোর অ্যারেনায় আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ফাইট নাইট। বিকাল ৫টায় শুরু হবে এই আসর। বক্সিং, এমএমএ এবং মুয়াই থাই মিলিয়ে তিনটি ডিসিপ্লিনের এই ফাইটে দেশ-বিদেশের শীর্ষ ফাইটারা অংশ নেবেন। গতকাল এ আয়োজন উপলক্ষে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় এক সংবাদ সম্মেলন। সেখানেই প্রতিপক্ষদের পরিচয় করিয়ে দেন আয়োজকরা। এই মেগা ইভেন্টটির আয়োজনে রয়েছে তানভীর বসুন্ধরা গ্রুপ (টিবিজি)। তরুণ প্রজন্মকে ক্রীড়ামুখী করতে তারা এই প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে টিবিজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আহমেদ ইব্রাহিম সোবহান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া জুলকান ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপের সিওও অরবিন্দ লালওয়ানি উপস্থিত থেকে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
এ ইভেন্টে মোট ১২টি বাউট (লড়াই) অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের প্রতিভাবান ফাইটারদের মুখোমুখি লড়বেন থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন ও সিঙ্গাপুরের প্রতিযোগীরা। ঘোষিত ফাইট কার্ডে থাকবে বেশ কয়েকটি আকর্ষণীয় ম্যাচআপ। নারীদের বক্সিংয়ে বাংলাদেশের সানজিদা জান্নাত লড়বেন থাইল্যান্ডের পর্নপিমন পংপেওর বিপক্ষে। সানজিদা বলেন, ‘আমি জয়ের জন্যই লড়াই করব। প্রতিপক্ষকে নকআউট করতে চাই।’ এ ছাড়া ইমন টংচাংইয়া লড়বেন ফিলিপাইনের রকি ব্যাকটলের বিপক্ষে। হোসাইন আহমেদ লড়বেন উইরাওয়াত সাপনলার বিপক্ষে। আজিদ বেবি লড়বেন নিক চুয়া জেন কং-এর বিপক্ষে। আবদুল হামিদ নূর লড়বেন শন রাফায়েল স্যানির বিপক্ষে।
এমএমএ বিভাগে বাংলাদেশের মনজুর আলমের প্রতিপক্ষ থাকবেন জন ইজেকিয়েল পাগালাঙ্গান। মার্ক জোসেফ অ্যাব্রিলো লড়বেন নাট্টাওয়াত কাওখানচুমের বিপক্ষে। এ ছাড়া ‘দ্য গোল্ডেন বয়’ খ্যাত মাসাদুল রেজা ওমেওসহ আরও বেশ কয়েকজন স্থানীয় ফাইটার এই ইভেন্টে অংশ নেবেন। এক প্রশ্নের জবাবে অরবিন্দ লালওয়ানি বলেন, ‘বাংলাদেশে আমরা এই আয়োজনের মাধ্যমে এক ইতিহাস গড়তে যাচ্ছি। ভবিষ্যতের জন্য এটি একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।’ দেশি-বিদেশি ফাইটাররাও এবারের আসর নিয়ে দারুণ রোমাঞ্চিত। বাংলাদেশের ফাইটাররা চ্যাম্পিয়নশিপ বেল্টগুলো নিজেদের দেশেই রেখে দিতে বদ্ধপরিকর।