উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ২০২৫-২৬ মৌসুমের উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের আগে এ মঞ্চের সেমিফাইনাল দারুণ উন্মাদনা ছড়াচ্ছে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে। ইউরোপসেরার লড়াইয়ে সেমিফাইনালের প্রথম লেগে আগুনে লড়াইয়ে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ফরাসি জায়ান্ট প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) এবং জার্মান পাওয়ার হাউস বায়ার্ন মিউনিখ। প্যারিসের ঐতিহাসিক স্টেডিয়াম ‘পার্ক দ্য প্রিন্সেস’-এ বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় জার্মান চ্যাম্পিয়নদের আতিথ্য দেবে পিএসজি। এদিকে ইউরোপসেরার লড়াইয়ের আগে নিজ নিজ লিগে দুই দলই আধিপত্য বজায় রেখেছে। চলতি মৌসুমে জার্মান বুন্দেসলিগার শিরোপা নিশ্চিত করেছে রেকর্ড চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজিরও ফরাসি লিগ ওয়ানের শিরোপা প্রায় নিশ্চিত। ফলে ইউরোপসেরার লড়াইয়ের সেমিফাইনাল ম্যাচ আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
সেমিফাইনালে ওঠার পথে দুই দলই দেখিয়েছে দুর্দান্ত দাপট। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি কোয়ার্টার ফাইনালে ইংলিশ ক্লাব লিভারপুলের মুখোমুখি হয়। দুই লেগ মিলিয়ে অল-রেডদের ৪-০ ব্যবধানে (প্রথম লেগে ২-০ এবং দ্বিতীয় লেগে ২-০) উড়িয়ে সেমিফাইনালে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে দলটি। আর জার্মান জায়ান্টরা কোয়ার্টার ফাইনালে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ছিল অপ্রতিদ্বন্দ্বী। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ২-১ এবং মিউনিখের অ্যালিয়ান্স অ্যারেনায় ৪-৩ গোলের জয়ে বায়ার্ন মোট ৬-৪ ব্যবধানে রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে সেমির টিকিট কাটে।
পিএসজি ও বায়ার্ন মিউনিখ চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে বহুবার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে। ২০২০ সালে ফাইনালে লিসবনে প্যারিসিয়ানদের ১-০ গোলে পরাজিত করে ইউরোপসেরার ট্রফি জেতে জার্মানরা। ঐতিহাসিকভাবে বায়ার্ন মিউনিখ ইউরোপের এই মঞ্চে পিএসজির বিপক্ষে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লড়াইটি হয়েছে সমানে সমান। এবার চ্যাম্পিয়নস লিগে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ১৫তম আসর এটি। পিএসজির জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ বায়ার্নের বিপক্ষে তাদের জয়ের হার অন্য যেকোনো দলের তুলনায় কম। তবে ঘরের মাঠে দর্শকদের সামনে পিএসজি তাদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত। ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তাপ বাড়ার আগেই ইউরোপের এ শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে কার হাতে উঠবে ফাইনালের টিকিট, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। পিএসজি কোচ লুইস এনরিকের রণকৌশল নাকি ভিনসেন্ট কম্পানির বায়ার্ন মিউনিখের ট্যাকটিক্যাল মাস্টার ক্লাস; কার জয় হয়, তা দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব। রাতের ম্যাচে পার্ক দ্য প্রিন্সেসে তৈরি হতে যাচ্ছে এক নতুন ইতিহাস।