Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শনিবার, ২৩ মে, ২০১৫ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ২৩ মে, ২০১৫ ০০:০০
ঐতিহ্য
তেওতা ও বালিয়াটি জমিদার বাড়ি
তেওতা ও বালিয়াটি জমিদার বাড়ি

মানিকগঞ্জের তেওতা ও বালিয়াটি জমিদার বাড়ি সংস্কারের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে। সংস্কার করা হলে বিনোদনপ্রেমীদের পূরণ হবে বিনোদন, রক্ষা পাবে প্রত্নতত্ত্ব, গড়ে উঠবে পর্যটন কেন্দ্র- রাজস্ব আয় হবে লাখ লাখ টাকা। দৃষ্টিনন্দিত, কারুকাজ খচিত প্রাসাদসমৃদ্ধ সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি জমিদার বাড়ি ৫.৮৮ একর ও শিবালয় উপজেলার তেওতা জমিদার বাড়ি ৭.৭৫ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত। সময়োপযোগী পদক্ষেপ না নেওয়ায় দিন দিন দর্শনার্থীদের ভিড় কমে যাচ্ছে, ফলে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। সংকুচিত হচ্ছে বিনোদনের পরিধি। তেওতা জমিদার বাড়িটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ভবনগুলো দীর্ঘদিন বেদখল থাকার কারণে এখানে মাদক সেবন, বিক্রি ও অসামাজিক কাজকর্ম চলে বিনা দ্বিধায়। জানা যায়, বালিয়াটি এলাকায় খ্রিস্টীয় উনিশ শতকে ইমারতগুলো নির্মিত হয়েছে। প্রাসাদ চত্বরটি প্রাচীরঘেরা। এখানে সাতটি প্রাসাদতুল্য ভবন রয়েছে। যার মধ্যে ২০০টি কক্ষ আছে। এ প্রাসাদের দ্বিতীয় তলায় একটি দৃষ্টিনন্দন রংমহল রয়েছে। এই রংমহলে জমিদার পরিবারের ব্যবহৃত নিদর্শনাদী প্রদর্শিত হচ্ছে। জমিদারের পূর্বপুরুষ ছিলেন ধনাঢ্য লবণ ব্যবসায়ী গোবিন্দ রাম সাহা। এ অঞ্চল ছাড়াও রাজধানী ঢাকায় তারা বিদ্যালয়, দাতব্য চিকিৎসালয় ও মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। ঢাকার বিখ্যাত জগন্নাথ কলেজ তাদেরই বংশধর বাবু কিশোরী লাল রায় প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে এখানে লোকজন বেড়াতে আসেন। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বালিয়াটি জমিদার বাড়িটি ধ্বংস হতে বসেছে। বেশকটি সুবিশাল ভবন থাকলেও মাত্র একটি ভবন ছাড়া সবই ব্যবহারের অনুপযোগী। ৫টি পাকা ঘাট সমৃদ্ধ একটি পুকুর থাকলেও শুধু খননের অভাবে এটি পরিত্যক্ত রয়েছে। বালিয়াটি প্রাসাদের গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর ১৯৮৭ সালে এটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি ঘোষণা করে। এরপরই তাদের দায়িত্ব শেষ। এরপর তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে দেখা যায়নি। বালিয়াটি জমিদার বাড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুল হক জানান, প্রাচীরঘেরা অনেক ভবনের মধ্যে মাত্র একটি ছাড়া সবই জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দিন দিন স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় রাতে ভুতুড়ে অবস্থা বিরাজ করছে। তেওতা জমিদার বাড়ির জমিদার জয়শংকর ও হেমশংকর ১৯৪৭ সালে ভারতে চলে যান। পরবর্তীতে সরকার অধিগ্রহণ করলেও সংস্কার না করায় অযত্ন-অবহেলায় বেশির ভাগ ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এ বাড়িতে ৫টি বৃহৎ ভবন রয়েছে। এ ভবনগুলোতে ৫৫টি কক্ষ আছে। মাত্র একটি কক্ষে তেওতা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কার্যক্রম চলছে। বাকি কক্ষগুলো দখলদাররা ব্যবহার করছে। নির্জন কক্ষগুলোতে চলছে অসামাজিক কার্যকলাপ। ইতিমধ্যে দুর্লভ নিদর্শনগুলো বেহাত হয়ে গেছে। এখনো কোটি কোটি টাকার অমূল্য সম্পদ রয়েছে। এসব সংরক্ষণ করে পর্যটনশিল্প গড়ে তুললে অনেক টাকা রাজস্ব আয় হবে। রক্ষা পাবে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য।

 

এই পাতার আরো খবর
up-arrow