বর্ষা মৌসুমে দেশের নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর ও জলাশয়গুলো পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ সময় প্রায়ই পানিতে পড়ে শিশু মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু রোধে জনসচেতনতা বাড়াতে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করেছে সামাজিক সংগঠন বসুন্ধরা শুভসংঘ।
শনিবার বিকেলে উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের হাসরা মাজালিয়া এলাকায় বসুন্ধরা শুভসংঘ সরিষাবাড়ী উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ সরিষাবাড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি জাকারিয়া আহমেদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান লিটন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বেতার ময়মনসিংহের উপস্থাপক ও আবৃত্তিকার আসাদুজ্জামান আসাদ।
সচেতনতামূলক এ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ সরিষাবাড়ী উপজেলা শাখার উপদেষ্টা ও সহজপাঠ ফাউন্ডেশনের পরিচালক আতিফ আসাদ, সোহানুর রহমান সোহান, সদস্য শাকিল আহমেদ, পিয়াস, অনিক, রাহাত মিয়া, সাব্বির আহমেদসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুরা পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি থাকে। অনেক সময় ঘরের ভেতরে থাকা পানিভর্তি বালতি, টব, ড্রাম কিংবা অন্যান্য পাত্রই শিশুদের জন্য বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তিনি বলেন, ছোট শিশুরা কৌতূহলবশত এসব পানির পাত্রের কাছে যায় এবং অসাবধানতাবশত পড়ে গিয়ে বিপদে পড়ে। মাত্র কয়েক ইঞ্চি পানিতেও একটি শিশুর মৃত্যু হতে পারে। পরিবারের সদস্যরা একটু সচেতন হলেই এ ধরনের হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক সামিউল হক বলেন, ব্যবহারের পর বালতি, টব বা ড্রামে থাকা পানি দ্রুত ফেলে দিতে হবে এবং পাত্রগুলো উল্টো করে রাখতে হবে। যদি কোনো কারণে পানি সংরক্ষণ করতে হয়, তাহলে শক্ত ঢাকনা দিয়ে ভালোভাবে বন্ধ রাখতে হবে, যাতে শিশুরা সহজে খুলতে না পারে।
তিনি আরও বলেন, ছোট পানির পাত্র, মগ বা অন্যান্য জিনিস শিশুদের হাতের নাগালের বাইরে রাখতে হবে। পাশাপাশি শিশুদের চলাফেরার সময় বড়দের বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন।
বসুন্ধরা শুভসংঘের উপজেলা শাখার উপদেষ্টা ও কালের কণ্ঠের সরিষাবাড়ী প্রতিনিধি মমিনুল ইসলাম কিসমত বলেন, “আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। প্রত্যেক শিশুর নিরাপদে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। শিশুদের সুরক্ষার দায়িত্ব পরিবারের প্রতিটি সদস্যের।”তিনি বলেন, শিশুদের নিরাপত্তায় বাথরুমের দরজা সবসময় বন্ধ রাখা উচিত, যাতে তারা একা সেখানে প্রবেশ করতে না পারে। বিশেষ করে যারা হামাগুড়ি দেওয়া বা হাঁটা শেখে, তাদের প্রতি সবসময় সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। পরিবারের সবাইকে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, কোনো শিশু পানিতে পড়ে গেলে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে হবে এবং দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিতে হবে।
সভায় বক্তারা বলেন, শিশুদের প্রতি বাড়তি যত্ন, নিরাপদ পরিবেশ তৈরি এবং সামান্য সতর্কতাই পানিতে ডুবে মৃত্যুর মতো মর্মান্তিক ঘটনা থেকে পরিবারগুলোকে রক্ষা করতে পারে।
বিডি-প্রতিদিন/টিএ