ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) আবাসন সংকট নিরসনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও বিভিন্ন হল সংসদের নেতাকর্মীরা।
সোমবার দুপুর ১২টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ও ডাকসু নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা সিট না পেয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, অথচ পুরনো সেশনের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দিয়ে সিট দেওয়া হচ্ছে।
এসময় তাদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায়। পরে তারা মিছিল নিয়ে রেজিস্ট্রার ভবন প্রদক্ষিণ করেন। বিক্ষোভ শেষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ নবীন শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট সমাধানে ৭ দিনের আল্টিমেটাম দেন।
তিনি বলেন, তিন সপ্তাহ আগে উপাচার্যের কাছ থেকে আমরা আশ্বাস পেয়েছিলাম যে দ্রুত সিট সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। কোনো কমিটি হয়নি, কোনো দৃশ্যমান পরিকল্পনাও নেই।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী শনিবারের মধ্যে যেসব শিক্ষার্থীকে সিট দেওয়া সম্ভব হবে না, তাদের জন্য আবাসন ভাতা বা উপবৃত্তির ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জনে যাবে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠন শিক্ষার্থীদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে হলে ‘গণরুম’ ও ‘আদুভাই’ সংস্কৃতি পুনরায় চালুর চেষ্টা করছে।
কর্মসূচি থেকে উপাচার্যের কাছে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো-২০২৫-২৬, ২০২৪-২৫ ও ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য দ্রুত সিট বরাদ্দের সার্কুলার প্রকাশ, রেজিস্ট্রার ভবনের দায়িত্বে অবহেলা করা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও ডিজিটাল মনিটরিং চালু, ৩০ এপ্রিলের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সিট বরাদ্দ তালিকা প্রকাশ এবং দীর্ঘমেয়াদি ও অনিয়মিত ‘প্রবীণ’ শিক্ষার্থীদের হল বরাদ্দ বাতিল।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শতভাগ আবাসিক নয়, তাই একযোগে সবার জন্য আবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আবাসন নিশ্চিত করে তারপর ক্লাস শুরু করতে হলে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে। বিষয়টি প্রভোস্ট কমিটির বৈঠকে আলোচনা করা হবে এবং ৩০ এপ্রিলের মধ্যে সিটসংক্রান্ত একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশের চেষ্টা করা হবে।
বিক্ষোভে বিজয় একাত্তর হলের ভিপি হাসানুল বান্না অভিযোগ করেন, ৩৬ জন ছাত্রদল-যুবদলের নেতাকর্মী সিট পেয়েছে, অথচ প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা এখনো সিট পায়নি। কোন ভিত্তিতে তাদের সিট দেওয়া হয়েছে, তার কোনো উত্তর নেই। এটা প্রশাসনের ব্যর্থতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট সমাধানে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করতে না পারা প্রশাসনের দায়।
এ বিষয়ে প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি ও সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, যে ৩৬ জনকে সিট দেওয়া হয়েছে, তাদের অতি বিশেষ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে তারা বঞ্চিত ছিল। বিদ্যমান নীতিমালা অনুসরণ করেই সিট বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে এবং নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য সিট নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করছে।
বিডি প্রতিদিন/এমআই