সিলেটে স্কুলে স্কুলে বই উৎসব না থাকলেও উচ্ছ্বাসের কমতি ছিল না শিক্ষার্থীদের। বছরের প্রথম দিন হাতে নতুন বই পেয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন তারা। করোনা পরিস্থিতির কারণে এবছর সিলেটে দুটি প্রাথমিক ও দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বই উৎসব হয়েছে। বাকি স্কুলগুলোতে ক্লাস ক্লাসে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হয় নতুন বই।
শিক্ষা অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সিলেট নগরীর দুটি প্রাথমিক ও দুটি উচ্চবিদ্যালয়ে সীমিত পরিসরে বই বিতরণ উৎসবের আয়োজন করা হয়। নগরীর জিন্দাবাজারস্থ সরকারি কিন্ডারগার্ডেন স্কুল ও দুর্গাকুমার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। সকালে সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে বই উৎসবের উদ্বোধন করেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ড. মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন। এ সময় জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম, সিলেট অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর কবীর আহাম্মদ, সিলেট জেলার শিক্ষা অফিসার এ. এস. এম আব্দুল ওয়াদুদসহ বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
এবছর সিলেট বিভাগে সরকারি, বেসরকারি মিলিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইবতেদায়ি মাদরাসা ও কেজি স্কুলে ১৭ লাখ ১১ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এসব শিক্ষার্থীর জন্য বইয়ের চাহিদা ৭২ লাখ ৯৫ হাজার ৫৯৬টি। এ ছাড়া মাধ্যমিক পর্যায়ে ৮ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য বইয়ের চাহিদা ১ কোটি ৫৭ লাখ। তবে ছাপার কাজ শেষ না হওয়ায় সব বই বছরের প্রথম দিন পাওয়া যায়নি। যেসব বই পাওয়া গেছে, সেগুলোই আপাতত বিতরণ করা হচ্ছে।
এদিকে, নতুন বই হাতে পেয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছে শিক্ষার্থীরা। অগ্রগামী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নওশিন তাবাসসুম বলেন, ‘আমাদের কাছে নতুন বছর মানেই হচ্ছে নতুন ক্লাসে উত্তীর্ণ হওয়া, নতুন বই হাতে পাওয়া। নতুন বই শুঁকলে যে ঘ্রাণ মেলে, এর অনুভূতি আসলে বলে বোঝানো সম্ভব না।’
বিডি প্রতিদিন/এএম