শিরোনাম
প্রকাশ : ৬ এপ্রিল, ২০২০ ১৮:৫৫
আপডেট : ৬ এপ্রিল, ২০২০ ১৮:৫৮

করোনাভাইরাস; অল-আউট অ্যাকশনে চট্টগ্রামের প্রশাসন

মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম:

করোনাভাইরাস; অল-আউট অ্যাকশনে চট্টগ্রামের প্রশাসন

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ‘অল-আউট’ অ্যাকশন শুরু করেছে চট্টগ্রামের প্রশাসন। লোকজনের অযথা বাইরে ঘুরাফেরা কঠোর হস্তে নিয়ন্ত্রণ করতে বিভিন্ন থানা পুলিশকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একই সাথে সীমিত করা হয়েছে দোকান খোলা  বন্ধের সূচিও।  

সিএমপি কমিশনার মাহাবুবর রহমান বলেন, ‘যারা বাইরে ঘুরাঘুরি করছে তাদের বিষয়ে আমরা কঠোর হচ্ছি। যারা লোকজনকে হুমকীর মুখে ফেলে সরকারী নির্দেশ অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর থেকে আরো কঠোর হবে। ’

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক বলেন, ‘এতোদিন আমরা লোকজনকে বুঝিয়ে চেষ্টা করেছি ঘরে রাখতে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে উল্লেযোগ্য অংশ মানুষ করোনার বিষয়ে এখনো সচেতন না। তাই পুলিশের কাজ কঠিন হয়ে উঠেছে। এখন দেশের স্বার্থে প্রয়োজনে আমরা অ্যাকশনে যাবে।’

জানা যায়, চট্টগ্রামে দুই দিনের ব্যবধানে বাবা ও ছেলের করোনা পজেটিভ পাওয়ার পর নড়েছড়ে বসেছে চট্টগ্রামের প্রশাসন। দুই রোগী চিহ্নিত হওয়ার পর সরকারি নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে অল-আউট অ্যাকশনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় চট্টগ্রামের প্রশাসন। এরই মধ্যে সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ঔষদের দোকান ছাড়া সব ধরণের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশান দিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ। কোন ব্যবসায়ী প্রতিষ্টান এ আদেশ অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে থানা পুলিশকে। এছাড়া যৌক্তিক কারণ ছাড়া ঘুরাফেরাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে থানা পুলিশ। জেলার বিভিন্ন উপজেলাগুলোতেও নানান নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে। যার মধ্যে রয়েছে সকাল ১১টার পর থেকে বন্ধ থাকবে কাঁচা বাজার ও ফলের দোকান বন্ধ রাখা। বিকেল ৫টার পর মুদির দোকান বন্ধ রাখা অন্যতম। তবে এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে ঔষুধের দোকান ও জরুরী সেবা সংস্থাগুলো। গ্রামের চায়ের দোকান ও লোকজনের আড্ডা বন্ধের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একই সাথে উপজেলার টঙের দোকানগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে। প্রশাসনের এসব কার্যক্রমে সার্বিক সহায়তায় রয়েছে সেনা বাহিনী। একই সাথে মাস্ক বিতরণ ও জনসচেতনতার কাজও করছে সেনাবাহিনী।

বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তাকারী সেনা দলের সমন্বয়কারী ২৪ পদাতিক ডিভিশনের কর্মকর্তা মেজর আবু সাঈদ বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করছে পুলিশ। নগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় সেনাবাহিনীর ১৮টি দল কাজ করছে। একই সাথে মাস্ক ও জনসচেতনতা তৈরির কাজও করছে সেনা বাহিনী।’ 

বিডি প্রতিদিন/এ মজুমদার


আপনার মন্তব্য