শিরোনাম
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৮:১৫

হালকা বৃষ্টি-জোয়ারের পানিতে চট্টগ্রামে দুর্ভোগে চরমে

সাইদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম:

হালকা বৃষ্টি-জোয়ারের পানিতে চট্টগ্রামে দুর্ভোগে চরমে

চট্টগ্রামে বেশ কয়েকদিন ধরেই থেমে থেমে মাঝারি হালকা বৃষ্টি হচ্ছে। একই সাথে সাগরও উত্তাল রয়েছে। নগরীর নিম্নাঞ্চলগুলোতেও বৃষ্টির পাশাপাশি জোয়ারের পানিতে আতংকিত রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। নগরীর খাতুনগঞ্জ, চাক্তাই, আসাদগঞ্জ, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক, হালিশহর, মুরাদপুর, চকবাজারসহ আরো বেশ কয়েকটি এলাকা নিম্নাঞ্চল। পাশাপাশি বৃষ্টির কারণে নগরীর পাহাড়ধস আতঙ্কও রয়েছে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত লোকজনের মধ্যে। 

শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজ, কোচিং বন্ধ থাকলেও অফিসগামী গণপরিবহন যাত্রী আর নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পোহাচ্ছেন এই বৃষ্টিতেই। তবে চট্টগ্রাম বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত বহাল রেখেছে আবহাওয়া অফিস।

জানা গেছে, ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ, শুঁটকির বড় মোকাম আসাদগঞ্জ থেকে শুরু করে আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতাল, আশপাশের সরকারি কলোনি, আবাসিক এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের মধ্যে জলাবদ্ধতার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ ড. শহিদুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ১৮ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সকাল ৬টায় যা ছিল ১৪ দশমিক ৫ মিলিমিটার। কর্ণফুলী নদীতে প্রথম ভাটা শুরু হয়েছে ভোর ৩টা ৫৪ মিনিটে, জোয়ার ১০টা ৪০ মিনিটে। দ্বিতীয় ভাটা শুরু হবে বিকেল ৪টা ১৬ মিনিটে, জোয়ার রাত ১০টা ৫৬ মিনিটে।

মা ও শিশু হাসপাতালের আজীবন সদস্য ফোরামের সদস্য সচিব লায়ন্স মাহমুদুর রহমান শাওন বলেন, সামান্য বৃষ্টি এবং জোয়ারের পানি উঠলেই নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মা ও শিশু হাসপাতালটির নিচতলায় ডুবে যায় প্রায় সময়। বৃষ্টি এবং জোয়ার হলেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও রোগীরা নিয়মিত আতংকের মধ্যেই থাকতে হয়। দীর্ঘ বছর ধরেই এই হাসপাতালটি সাধারণ মানুষের সেবা দিয়ে আসলেও এখনও পর্যন্ত এই পানির সমস্যাসহ নানাবিধ সমস্যা দূর করা যাচ্ছে না। ফলে রোগীদের ভোগান্তি হচ্ছে নিয়মতিই। তাছাড়া বর্তমানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা থাকলেও একটি চক্রের কারণে এসব সুরাহা করতে কঠিন হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

খাতুনগঞ্জের জাহাঙ্গীর আলম নামের একজন ব্যবসায়ী নেতা বলেন, কর্ণফুলী ভরাটের কারণে পানি ধারণক্ষমতা কমে গেছে। জোয়ার এলে কিংবা কাপ্তাই হ্রদের পানি ছাড়া হলে নগরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। অমাবস্যা, পূর্ণিমায় ভারী বৃষ্টি ও জোয়ার একসঙ্গে হলে হাঁটু পানি হয় সড়কের ওপর। খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন অলি-গলিতের মধ্যেই পানি উঠে গেছে। প্রায় দোকান পানি নিচেই দেখা যাচ্ছে। এসব নিয়েই ব্যবসায়ীরা নানা ধরণের আতংকের মধ্যেও রয়েছেন বলে জানান তিনি।

বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর