শিরোনাম
প্রকাশ : ৭ মার্চ, ২০২১ ২২:২৮
প্রিন্ট করুন printer

নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে নারী নেতৃত্ব জরুরি: স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে নারী নেতৃত্ব জরুরি: স্পিকার
ফাইল ছবি

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে ও মুজিববর্ষের প্রেক্ষিতে এবং ইউনেস্কো ৭ মার্চের ভাষণের স্বীকৃতি দেওয়ায় ঐতিহাসিক এদিনটিকে সরকার জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। সেকারণে ২০২১ সালের ৮ মার্চ নারী দিবস এক অন্য মাত্রা পেয়েছে। নারীরা পরিবর্তনের শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিনিধি। নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে অধিকতর নারী নেতৃত্ব জরুরি। নারী নেতৃত্বের এই অগ্রযাত্রায় সকলের সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন। এজন্য বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া ও স্থানীয় অভিজ্ঞতার সমন্বয় দরকার।

বিশ্ব নারী দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতিসংঘ বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘উইমেন ইন লিডারশিপঃ হোয়াট ডাস ইট টেক’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পো। আলোচনা অংশ নেন, বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সেলিমা আহমেদ এমপি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডাঃ মীরজাদী সাবরিনা ফ্লোরা, বাংলাদেশ পুলিশের ডিআইজি আমেনা বেগম, মিডওয়াইফারি অফিসার মোসাম্মৎ করিমা বেগম, অল ফর ওয়ান ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন কামরুন্নেসা মীরা।

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী আরো বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা নেতৃত্বের দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে যা দুঃখজনক। স্বাস্থ্যখাতসহ বিভিন্ন খাতে সেবাদানকারী হিসেবে নারীদের ভূমিকা অগ্রগণ্য হলেও নেতৃত্বের দিক থেকে তারা মাত্র ২৫ শতাংশ। এই দৃশ্যপট পরিবর্তনে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি পরিস্থিতে নারী নির্যাতন ও সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে যদিও এই সমইয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা, অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা প্রসারের মাধ্যমে অর্থনীতিতে নারীদের অবদান ছিল লক্ষণীয়। এসময় করোনা মহামারি মোকাবেলায় যথাসময়ে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের কারণে কমনওয়েলথ কর্তৃক চারজনের মধ্যে অন্যতম নারী নেত্রী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘ইন্সপায়রেশনাল লিডারশিপ’ সম্মাননা অর্জন করায় করায় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান তিনি। মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক বিবেচনায় তাদের অবদান অনস্বীকার্য। সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায়, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়নের জন্য মূলধারায় নারীদের সম্পৃক্ততা জরুরি। 

স্পিকর আরো বলেন, ৭মার্চ বাঙালি জাতির জন্য এক অনন্য মাইলফলক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে ঐতিহাসিক এদিনে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। নারী দিবসের প্রাক্কালে তিনি ত্রিশ লক্ষ শহীদ, দুই লক্ষ সম্ভ্রম হারানো মা-বোন, জাতীয় চার নেতা ও ৭৫এর ১৫আগস্ট নির্মমভাবে নিহত বঙ্গবন্ধু পরিবারের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। অনুষ্ঠানে ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জি, জাতিসংঘ বাংলাদেশের প্রতিনিধিসহ গণমাধ্যম কর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এরআগে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পনের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান। 

বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর