শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ অক্টোবর, ২০১৯ ২৩:৪১

কর্ণফুলীতে ১০ টন তেল

জাহাজ কোম্পানিকে তিন কোটি টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

জাহাজ কোম্পানিকে তিন কোটি টাকা জরিমানা

শুক্রবার ভোরে কর্ণফুলী নদীর তিন নম্বর ডলফিন জেটি এলাকায় লাইটার জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারের সংঘর্ষে কর্ণফুলী নদীতে প্রায় ১০ টন তেল পড়ে যায়। এর মধ্যে শনিবার বিকাল পর্যন্ত পানিমিশ্রিত প্রায় আট টনের মতো তেল নদী থেকে তোলা হয়েছে বলে দাবি বন্দর কর্তৃপক্ষের। এ কারণে তেলবাহী জাহাজ ‘এমটি দেশ-১’ কর্তৃপক্ষকে তিন কোটি টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদফতর। গতকাল দুপুরে পরিবেশ অধিদফতরের কার্যালয়ে এমটি দেশ-১ এর মালিকপক্ষের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে শুনানি শেষে পরিচালক আজাদুর রহমান মল্লিক এ জরিমানা করেন। এর আগে ২০১৮ সালে ৪ সেপ্টেম্বর অপরিশোধিত তরল বর্জ্য পড়ে নদী দূষণের দায়ে একটি ফিশিং করপোরেশনকে ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৮০০ টাকা জরিমানা করে পরিবেশ অধিদফতর। ২০১৬ সালের ১৫ জুলাই দুই ট্যাংকারের সংঘর্ষে জ্বালানি তেল ছড়িয়ে পড়ে কর্ণফুলীতে। ২০১৫ সালের ১৯ জুন বোয়ালখালী উপজেলা বেঙ্গুরায় সেতু ভেঙে জ্বালানি তেলবাহী ট্রেনের ইঞ্জিনসহ তিনটি ওয়াগন বোয়ালখালী খালে পড়ে যায়।

এর মধ্যে দুটি খালে ডুবে প্রায় ৫৫ হাজার লিটার তেল খাল হয়ে কর্ণফুলীতে ছড়িয়ে পড়ে।  

এভাবে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রাণখ্যাত কর্ণফুলীতে বার বার পড়ছে তেল। ফলে তেলসহ নানা তরল বর্জ্য থেকে বাঁচানো যাচ্ছে না এ নদীকে। ফলে চরম আকারে দূষিত হচ্ছে কর্ণফুলীর পানি। ফলে হুমকিতে পড়ছে জীববৈচিত্র্য। কমছে মাছ।  

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক নদী বিশেষজ্ঞ ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, ফার্নেস অয়েলের বহু নেতিবাচক প্রভাব আছে। এর কারণে পানির গুণ, নদীর আশপাশের পরিবেশ, কৃষি জমি ও জমির মাটি নষ্টসহ নানা সমস্যা দেখা দেয়। অত্যন্ত জরুরি বিষয় হলো- ভিতরে ভিতরে মাছের পরিবেশ নষ্ট হওয়া।’

তিনি বলেন, ‘দেশে ফার্নেস অয়েলের বহুমাত্রিক ব্যবহার চলছে। ফলে নদী ও সড়ক পথে নানাভাবে পরিবহন করা হচ্ছে। কিন্তু তেল পরিবহনে দুর্ঘটনা মোকাবিলায় দক্ষ জনবল এবং প্রযুক্তি নেই। তাই এখন দরকার ফায়ার সার্ভিসের মতো একটি প্রশিক্ষিত টিম। যারা জরুরি মুহূর্তে অয়েল ট্যাংকার উদ্ধারসহ প্রয়োজনীয় কাজ করবে।’

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘নদীতে অয়েল ট্যাংকার ফুটো হলে আমরা তাৎক্ষণিক তেল অপসারণের উদ্যোগ নিচ্ছি। তেল অপসারণ জাহাজ বে ক্লিনার-১ ও ২ এবং সাপোর্ট ভেসেল কা ারি-৮, ১০ ও ১১ কাজ করে।’ দেওয়া হয়।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর