শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ নভেম্বর, ২০২০ ২৩:১১

রেলওয়ের জমিতে হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প

অসন্তোষ-ক্ষোভেই আন্দোলনে যাচ্ছেন রেলওয়ের কর্মীরা

সাইদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম

রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে নোটিস দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। উপযুক্ত বাসস্থানসহ বসবাস নিশ্চিত না করেই এই নোটিস দেওয়ায় রেলওয়ের শ্রমিক সংগঠনসহ শত শত রেল কর্মীদের মাঝে অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এই সমস্যার সমাধান দ্রুত না হলে রেল শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্বে কঠোর আন্দোলনে নামবে রেল শ্রমিকরা। তবে শর্ত অনুযায়ী উপযুক্ত বাসস্থানের কথা বলা হলেও আয়তনে ছোট ও পরিত্যক্ত বাসা-বাড়ি পুনঃবরাদ্দ দেওয়ায় প্রকল্প এলাকায় বসবাসরত বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি)-এর অধীনে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের সিআরবিতে নির্মাণ হচ্ছে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ও ১০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ। প্রকল্প এলাকায় রয়েছে রেলকর্মীদের ১৫০টি বাসা-বাড়ি। জমি অবমুক্ত করতে ইতিমধ্যে প্রকল্প এলাকায় বসবাসরত রেলের বাসিন্দাদের উচ্ছেদের নোটিস দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পের জমি বুঝিয়ে দিতে সিআরবিস্থ রেলওয়ে হাসপাতাল কলোনির জমিতে বরাদ্দ নিয়ে বসবাসরত রেলওয়ে কর্মচারীদের বাসা ছেড়ে দিতে ইতিমধ্যে একাধিক নোটিস জারি করেছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় চিকিৎসা কর্মকর্তার কার্যালয়, পাহাড়তলির সহকারী কর্মব্যবস্থাপকের কার্যালয়, প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়। নোটিসপ্রাপ্ত রেলকর্মীদের বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ এর কাছে সংরক্ষিত রেলের বিভিন্ন এলাকার খালি বাসা থেকে নতুন বরাদ্দ নিতেও অনুরোধ জানানো হয়। তবে উপযুক্ত বিকল্প বরাদ্দকৃত বাসায় সন্তুষ্ট না হওয়ায় নোটিস পাওয়ার পরও প্রকল্প এলাকা ছেড়ে যাচ্ছে না নোটিসপ্রাপ্ত রেলওয়ে কর্মীরা। জানা গেছে, রেলওয়ের প্রকল্প এলাকায় বসবাসরত বাসিন্দাদের নতুন করে বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া বাসাগুলো পরিত্যক্ত। এ কারণে এই এলাকার রেলওয়ে কর্মীরা রেলের পরিত্যক্ত বাসা বরাদ্দ নিতে অনাগ্রহী। এরই মধ্যে প্রকল্প এলাকার বাসিন্দারা পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকসহ রেলের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে স্মারকলিপিও প্রদান করেছে। রেলওয়ের রেজিস্ট্রার্ড ৯টি সিবিএ সংগঠন নেতারা গত ১২ নভেম্বর রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের কাছে স্মারক লিপি জমা দেয়।

প্রকল্প এলাকার বাসিন্দা ও রেলওয়ে সংগঠনগুলোর দাবি, ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের ভালোমানের বাসা বরাদ্দ প্রদান করলেই তারা প্রকল্প এলাকার বাসা ছেড়ে যাবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে এমপ্লয়িজ লীগের সভাপতি আনোয়ারুল হক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, রেল কর্মচারীরা রেলের জমিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিপক্ষে নয়। কিন্তু প্রকল্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত রেল কর্মীদের সমান সুযোগ-সুবিধার বাসা-বাড়ি পুনঃবরাদ্দ না দেওয়ায় প্রকল্প এলাকায় ক্ষোভ বাড়ছে।

পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সেতু) ও প্রকল্প পরিচালক মো. আহসান জাবির গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, রেলকর্মীদের স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সিআরবি এলাকায় ১৯৫টি খালি বাসায় ভুক্তভোগী রেলকর্মীদের জন্য পুনঃবরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর