দুর্নীতি ও ফ্যাসিস্টের দোসর অভিযোগে বিচারকাজ থেকে বিরত থাকা বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামান পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। গতকাল নিজের স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়েছেন তিনি। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইট থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের অনুসন্ধান চলমান ছিল। গত ২৬ আগস্ট সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে তার বিষয়ে চূড়ান্ত শুনানি হয়। সুপ্রিম কোর্ট সূত্র জানায়, বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামান ২০১৮ সালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড দিয়েছিলেন।
এদিকে গত বছরের ১৬ অক্টোবর আওয়ামী লীগের ‘ফ্যাসিস্ট’ বিচারপতিদের পদত্যাগ দাবিতে হাই কোর্ট ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। অন্যদিকে হাই কোর্ট বিভাগের ‘দলবাজ ও দুর্নীতিবাজ’ বিচারপতিদের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে বৈষম্যবিরোধী আইনজীবী সমাজ। আন্দোলনের মুখে হাই কোর্ট বিভাগের ১২ বিচারপতিকে প্রাথমিকভাবে কোনো বেঞ্চ না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন রেজিস্ট্রার জেনারেল। এরপর থেকে তাদের বিচারকাজের বাইরে রাখা হয়।
১২ বিচারপতি হলেন- বিচারপতি নাইমা হায়দার, বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ, বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাস, বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার, বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামান, বিচারপতি আতাউর রহমান খান, বিচারপতি শাহেদ নূর উদ্দিন, বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামান, বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলাম, বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসেন দোলন, বিচারপতি খিজির হায়াত ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামান।
এর মধ্যে বিচারপতি খিজির হায়াত ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানকে অপসারণ করে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল। অন্যদিকে অনুসন্ধান চলমান থাকা অবস্থায় পদত্যাগ করেন বিচারপতি শাহেদ নূর উদ্দিন। এ ছাড়া বিচারকাজের বাইরে থাকা অবস্থায় অবসরে যান বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাস ও বিচারপতি আতাউর রহমান খান। অন্যদিকে হাই কোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি থেকে স্থায়ী করা হয়নি বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলাম ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসেন দোলনকে।