শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ অক্টোবর, ২০১৯ ২৩:০৫

গাছে বাঁধা এ কেমন দুঃসহ জীবন

রেজাউল করিম মানিক, লালমনিরহাট

গাছে বাঁধা এ কেমন দুঃসহ জীবন

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের উত্তর গোবদা গ্রামের শঠিবাড়ী বাজার এলাকায় দুই বছর ধরে বাড়ির উঠানে রাস্তার পাশে গাছের সঙ্গে শিকলে বাঁধা রয়েছেন বৃদ্ধা লতিফুন বেগম (৬৫)। স্বামীপরিত্যক্তা ছোট বোন নুরজাহানের বাড়ির উঠানেই শিকলে বাঁধা তিনি। বোন নুরজাহান অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। এভাবেই শিকলে বাঁধা দুই বছর কেটে গেল লতিফুনের। এলাকাবাসী জানান, একমাত্র বোবা সন্তানসহ স্ত্রী লতিফুনকে তালাক দেন একই এলাকার দীঘলটারী গ্রামের আছিমুল্লাহ। এরপর লতিফুনের ঠাঁই হয় শঠিবাড়ী বাজারের দুর্গাপুর ইউনিয়নের বিধবা বোন নুরজাহানের ঘরে। নুরজাহানের ছেলেমেয়েরা সবাই ঢাকায় অবস্থান করায় সরকারিভাবে পাওয়া বিধবা ভাতার অর্থ ও ঝিয়ের কাজ করে চলে নুরজাহানের সংসার। পরে লতিফুন বেগম মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েন। মানসিক ভারসাম্যহীন বোনকে সুস্থ করতে ধারদেনা করে চিকিৎসা করান বিধবা নুরজাহান। কিন্তু উন্নত চিকিৎসার অভাবে দিন দিন অবস্থার অবনতি ঘটে। অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে লতিফুনের চিকিৎসা। মানসিক ভারসাম্যহীন এই বৃদ্ধা পথচারীসহ বাজারের দোকানপাট ও এলাকাবাসীর ঘরবাড়ির ক্ষতি করতে শুরু করেন।

তাই নুরজাহান বেগম বোন লতিফুনের ডান পায়ে শিকল দিয়ে বাড়িসংলগ্ন রাস্তার পাশে একটি গাছে বেঁধে রাখেন। সেখানে দিনরাত ঝড়-বৃষ্টি-রোদ সহায় করে কেটে গেছে লতিফুনের দুই বছর।

শিকলে বাঁধা গাছতলাতেই নিজে রান্না করে খাবার খান প্রতিবন্ধী লতিফুন বেগম। এক বছর আগে উপজেলা সমাজসেবা অফিস লতিফুনের নামে একটি প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করে। সেই টাকা তুলে তাকে খাওয়ান নুরজাহান। নুরজাহান বলেন, ‘সে অনেকের ক্ষতি করে। তাই পায়ে শিকল দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। ঘরে বেঁধে রাখলে ঘরের জিনিসপত্র ভেঙে ফেলে তাই বাইরে বেঁধে রেখেছি। তাকে চিকিৎসা করার টাকা নেই।’ তাই প্রতিবন্ধী বোনের চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবানদের সাহায্য কামনা করেন তিনি।

দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালেকুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি জেনেছি। তাকে সরকারি বা বেসরকারিভাবে সহযোগিতা করলে তিনি সুচিকিৎসা পেয়ে সুস্থ জীবন ফিরে পেতে পারেন।’

 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর