শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:১৮

বইয়ের ভার বইতে পারছে না শিশুরা

আদালতের রায়েও পাল্টেনি চিত্র জটিল রোগে আক্রান্তের শঙ্কা

এস এম রেজাউল করিম, ঝালকাঠি

বইয়ের ভার বইতে পারছে না শিশুরা

ঝালকাঠির বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বোর্ড বইয়ের বাইরে অতিরিক্ত বই পাঠ্য করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত পাঠ্য করা বই শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রয়ের জন্যও চাপ দেওয়া হচ্ছে। প্রকাশনী থেকে কমিশন নিয়ে শিক্ষকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই বইয়ের ব্যবসা করছেন-আছে এমন অভিযোগও।

জানা যায়, শিশুর মানসিক ও শারীরিক বিকাশ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় সেজন্য উন্নত বিশ্ব এমনকি পাশের দেশ ভারতও শিশুদের ওপর থেকে বইয়ের চাপ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। শ্রেণি অনুসারে বইয়ের সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি ভারত শ্রেণিকক্ষে বইবিহীন শিক্ষা প্রকল্প শুরু করেছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ এমনকি আদালতের রায়ের পরও বাংলাদেশের শিশুদের কাঁধ থেকে নামছে না বইয়ের বোঝা। সরকার নির্ধারিত পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে বিভিন্ন অনুমোদনহীন বই চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে তাদের ওপর। প্রতিনিয়ত ভারী ব্যাগ পিঠে নিয়ে চলাচল করায় একদিকে যেমন শিশুর মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে অন্যদিকে শিশুরা দীর্ঘমেয়াদে নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা। শিক্ষাবিদ ও চিকিৎসকরা শিশুর ওপর থেকে বইয়ের বোঝা কমানোর তাগিদ দিয়ে বলেন, উন্নত দেশের মতো শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা বইবিহীন করা না গেলেও যে কোন উপায়ে বইয়ের সংখ্যা কমানো জরুরি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনহীন বই চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে নিতে হবে কঠোর পদক্ষেপ। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে আরও সক্রিয় হতে হবে। প্রতিনিয়ত বইয়ের বোঝা কাঁধে বহন করায় শিশুরা আর্থাইটিস ও অস্টিওপোরোসিসের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে বলে জানান তারা। বিশেষজ্ঞরা পাঠ্যবইয়ের বোঝা কমাতে একটি বইয়ের মধ্যে দুই-তিনটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করারও প্রস্তাব দিয়েছেন। অভিভাবকরা জানান, একদিকে বাড়তি বই পড়ার চাপ অন্যদিকে কোচিংয়ের জন্য চাপ- এ সব সহ্য করতে না পেরে শিশুরা প্রয়ই অসুস্থ হচ্ছে। বই, খাতা, কলম, পানির বোতল, খাবারসহ প্রত্যেক শিশুর বিশাল ব্যাগ বহন করতে হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি পার হলেই শুরু হয় অনুমোদনহীন বই পড়ানোর চাপ। প্রত্যেক শ্রেণিতে সরকার অনুমোদিত বইয়ের বাইরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাপিয়ে দেওয়া বই পড়তে বাধ্য হয় শিশুরা। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে কিন্ডার গার্টেনে শিশুদের ১৩-১৪টি বিষয় চাপিয়ে দেওয়া হয়। এনসিটিবি প্রতিবছর অনুমোদনহীন বই পড়ানোর বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিলেও নেওয়া হয় না কার্যকর কোনো পদক্ষেপ।


আপনার মন্তব্য