শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩০ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:৪৮

ফরিদপুরে মরণফাঁদ সেতু নিয়ে গ্রামবাসী উদ্বিগ্ন

ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরে মরণফাঁদ সেতু নিয়ে গ্রামবাসী উদ্বিগ্ন
সালথায় নির্মাণাধীন সেতুটি স্থানীয়দের মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে -বাংলাদেশ প্রতিদিন

মরণফাঁদে সেতু। ফলে জীবনহানির শঙ্কা করছেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার রামকান্তপুর গ্রামবাসী। এ উপজেলার বাজার-ময়েন্দিয়া সড়কের রাধুখালী খালের ওপর নির্মিত এ সেতুটি। সেতুর দুই পাশে নেই কোনো রেলিং। বেশির ভাগ পিলারের সিমেন্ট উঠে গেছে। বেরিয়ে গেছে রড। একপাশ ভেঙে যাওয়া বড় একটি অংশে কাঠ জোড়াতালি দিয়ে পারাপার হচ্ছেন হাজারো মানুষ। চলাচল করছে যানবাহন। মাঝে-মধ্যেই নড়বড়ে এ সেতুটি দিয়ে চলাচলরত লোকজন নিচে পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছেন। আর যে কোনো সময় সেতুটি ভেঙে গিয়ে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়রা সেতুটির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানালেও এর কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। রামকান্তপুর বাজার-ময়েনদিয়া সড়কের সাবেক ইউপি সদস্য আবু নাসেরের বাড়ির সামনে রাধুখালী খালের ওপর সেতুটি নির্মিত হয় ৪০ বছর আগে। দীর্ঘ সাত-আট বছর ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ হিসেবে মাঝে মাঝে কর্মকর্তা মাটি পরীক্ষা করে নিয়ে গেলেও এখনো নতুন সেতু নির্মাণের আলোর মুখ দেখছে না গ্রামবাসী। আতঙ্ক-ভয় আর ঝুঁকি নিয়েই সেতুর ওপর দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও যানবাহন চলাচল করছেন। সেতুটি যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় গ্রামবাসী। রামকান্তপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মাসুদুর রহমান খান বলেন, সেতুর ওপর দিয়ে চলাচলের সময় ভয়ে থাকতে হয়। কখন যেন এটি ভেঙে পড়ে। এমন আশঙ্কা নিয়ে ওই সেতুর ওপর দিয়ে জেলা-উপজেলা সদরে নিয়মিত চলাচল করছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আরেক বাসিন্দা হবি মাতুব্বর বলেন, রামকান্তপুর এলাকার ফসল বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে এ সেতু দিয়ে পারাপারে নানা সমস্যায় পড়তে হয়।

অনেকদিন সেতুটি নড়বড়ে থাকলেও এটি ঠিক করা হচ্ছে না। আমরা চাই এখানে নতুন একটি সেতু তৈরি হোক। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, মাঝে-মধ্যেই সেতু থেকে লোকজন পড়ে গিয়ে আহত হলেও স্থানীয় চেয়ারম্যান কিংবা কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই। সেতুটির এমন নড়বড়ে হয়েছে যে, এটি দিয়ে চলাচল করতে ভয় হয়। সেতুর একটি অংশ নেই। সেখানে বাঁশ দিয়ে জোড়াতালি দেওয়া হয়েছে। সালথা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বর বলেন, উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ওই সেতুটি দুবার সংস্কার করা হয়েছে। সেতুটি এখন দ্রুত পুনর্নির্মাণ না করলে ভেঙে পড়তে পারে। সালথা উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদুর মো. রহমান বলেন, সেতুটি পুনর্নির্মাণের জন্য মাটি পরীক্ষা করা  হয়েছে। দ্রুতই সেতুটি পুনর্নির্মাণ করা হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর