শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:১৯

নদের বুকজুড়ে শুধুই হাহাকার

আসাদুজ্জামান সুমন, ভালুকা

নদের বুকজুড়ে শুধুই হাহাকার

এক সময় খিরু নদ ছিল ভালুকার আশীর্বাদ। নানা প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত এ নদে। খিরুর বুক চিরে চলাচল করত লঞ্চ-পালতোলা নৌকা। ছিল স্বচ্ছ টলমলে পানি। সেই পানি দিয়ে সেচ দেওয়া হতো দুই তীরের ফসলি জমিতে। দুই পাড়ের মানুষ গোসলও করত এ নদে। সেই খিরুর বুকজুড়ে এখন শুধুই হাহাকার। দূষণ-দখল-বর্জ্যে হয়ে পড়ছে বিপর্যস্ত। কোথাও কোথাও সংকুচিত হয়ে পরিণত হয়েছে ডোবায়। পানি যাও আছে তা কালচে বিবর্ণ রঙ, ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ।  জানা যায়, দেড় যুগের নদের  এ বেহাল অবস্থা। দিন দিন অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে। আগে গোসলসহ সব কাজে মানুষ খিরুর পানি ব্যবহার করত। এখন গোসল-তো দূরের কথা এ পানিতে হাত লাগলেই চুলকানি হয়। নদের পানি দূষিত হয়ে যাওয়ায় আশপাশের গ্রামে গভীর নলকূপের পানি থেকেও দুর্গন্ধ বের হয়। নলকূপের পাইপ অনেক গভীরে না বসালে পানি খাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয় বয়ডা গ্রামের কয়েকজন কৃষক জানান, পানি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নদের পাড়ের বিশাল এলাকার দুই-তিন ফসলি জমি এখন এক ফসলি হয়ে গেছে। শুধু বোরো ধান ছাড়া এখানে অন্য কিছু হয় না। কারণ অন্য সময়ের ফসল পচা পানি সহ্য করতে পারে না। এ কারণে খিরু নদের দুই তীরের মানুষের আয়ও কমে গেছে। অধ্যক্ষ এ আর এম শামছুর রহমান জানান, ‘কারখানার বর্জ্য খিরু নদে ফেলা বন্ধ না করলে এক সময় এ নদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। এ জন্য এখনি নদ খনন ও শিল্পবর্জ্য ফেলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিষাক্ত পানির কারণে খিরু নদে এখন মাছ একেবারেই নেই’। ভালুকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নারগিস আক্তার বলেন, ‘নদের পানি দূষিত হওয়ায় আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে। অচিরেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালমা খাতুন বলেন, ‘নদী বর্জ্য না ফেলতে শিল্প কারখানাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ স্থানীয় এমপি কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ ধনু বলেন, ‘নদী দূষণ রোধ ও খননের বিষয়ে সংসদে আমি একাধিকরার কথা বলেছি। শিল্পবর্জ্য শোধন করতে প্রতিটি কারখানাকে ইটিপি প্ল্যান্ট কার্যকর করতে বলা হয়েছে। যারা না করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর