শনিবার, ৩ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

কোরবানির জন্য প্রস্তুত চাহিদার আড়াই গুণ বেশি গরু-ছাগল

আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত ১ লাখ ৬৫ হাজার গরু ও ছাগল

গৌতমাশিস গুহ সরকার, গাইবান্ধা

কোরবানির জন্য প্রস্তুত চাহিদার আড়াই গুণ বেশি গরু-ছাগল

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে বছরব্যাপী গরু-ছাগল লালন- পালন করে এখন করোনা পরিস্থিতিতে এগুলো বিক্রি নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন গাইবান্ধার খামারিরা। সরকারি হিসাবে জেলায় গত বছর ঈদে পশু জবাই হয়েছিল ৫৭ হাজার ৫৩৩টি। এবার ৬৬ হাজার গবাদিপশু (গরু, ছাগল) জবাইয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস। কিন্তু বাজারজাতকরণের জন্য খামারিরা প্রস্তুত রেখেছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার গরু ও ছাগল। যা চাহিদার আড়াই গুণ বেশি। জোগান বেশি থাকায় ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে যেমন শঙ্কা আছে, তেমনি করোনা পরিস্থিতিতে হাট বসবে কি না বা বসলেও ক্রেতা আগমন কেমন হবে এ নিয়ে শঙ্কায় আছেন খামারিরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলায় পশুহাট আছে ৪২টি। এর মধ্যে স্থায়ী পশুহাট ২৬টি। আর কোরবানি ঈদে বসে আরও ১৭টি অস্থায়ী পশুহাট। এর মধ্যে গাইবান্ধা সদরে ৬টি, গোবিন্দগঞ্জে ১৩টি, সুন্দরগঞ্জে ৮টি, পলাশবাড়ী উপজেলায় ৪টি, সাদুল্যাপুরে ৪টি, সাঘাটায় ৫টি এবং ফুলছড়িতে ২টি হাট। এ ছাড়া প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে করোনা পরিস্থিতিতে সাত উপজেলার জন্য সাতটি অনলাইন পশুহাট খোলা হয়েছে ঈদ উপলক্ষে। এই হাটগুলোতে জেলার বাণিজ্যিক খামারি এবং ক্ষুদ্র প্রান্তিক খামারিরা পশু বিক্রি করতে আসেন। জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস জানায়, জেলায় বাণিজ্যিক পশুখামার আছে ১২ হাজার ৬৭৭টি। কোরবানি ঈদের বাজার ধরতে যেখানে ৩৮ হাজার গরু ও ২৭ হাজার ছাগল প্রস্তুত রেখেছেন খামারিরা। এর বাইরে ক্ষুদ্র প্রান্তিক খামারির ঘরে প্রস্তুত আছে ৫২ হাজার গরু ও ৩৭ হাজার ছাগল। অর্থাৎ মোট ১ লাখ ৬৫ হাজার গরু ও ছাগল পালন করে তা বাজারজাত করতে প্রস্তুত খামারিরা। গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ধানঘড়া গ্রামের খামারি আইয়ুব আলী এবং উত্তর সাথালিয়া গ্রামের রাজ্জাক এগ্রো ফার্ম-এর মালিক আবদুর রাজ্জাক জানান, গত বছর করোনা পরিস্থিতিতে গরু বিক্রি করে লাভ হয়নি। সারা বছর গরু মোটাতাজাকরণের খরচ অনেক বেশি। ঈদের ১৫/২০ দিন আগ থেকেই হাটে পশু বেচাকেনা শুরু হয়। কিন্তু এবার যে লকডাউন চলছে তাতে হাট বসবে কি না বা বসলেও কয়দিন হাটবার পাওয়া যাবে এই চিন্তায় আছেন তারা। তাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের ফেসবুক পেজে অনলাইন গরু বিক্রিতে অংশ নিয়েছেন। কিন্তু এখনো ক্রেতাদের সাড়া মেলেনি। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মাছুদার রহমান সরকার বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাট বসানোর সরকারি সিদ্ধান্তে এখনো কোনো পরিবর্তন আসেনি। তাই আশা করা যায় হাট বসবে। খামারি ও পশু বিক্রেতাদের সহায়তা করতে আমাদের সাত উপজেলার জন্য অনলাইনে পশু বিক্রির জন্য আমরা সাতটি পেজ খুলেছি। আগ্রহী বিক্রেতারা যোগাযোগ করছেন। আমরা তাদের সহায়তা করছি।